সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নয়নে ইতিমধ্যে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বের এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং সাধারণ নাগরিকদের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যেকোনো ধরনের অপরাধ, খুন, ছিনতাই বা অপহরণ কঠোরভাবে দমনে পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী ভঙ্গুর পরিস্থিতি কাটিয়ে বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত মনোবল ফিরিয়ে এনে পূর্ণ শক্তিতে মাঠে নামানো হচ্ছে। কৌশলগত পরিকল্পনা অনুসারে সাধারণ জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অপর এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনানুগ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ছয় হাজার দুই শত ছিয়াশি জনকে চাকরিচ্যুত এবং দুই হাজার পাঁচ শত দশ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। যেহেতু সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে এবং কোনো নিরপরাধ সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি, তাই তাঁদের পুনর্বহালের কোনো আইনি সুযোগ নেই। একই সঙ্গে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় অভিযুক্তদের পুনর্বহালের সম্ভাবনাও তিনি সরাসরি নাকচ করে দেন।
রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সমগ্র ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাকে সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনতে একটি বিশেষ স্মার্ট পুলিশিং প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকা এই প্রকল্পটির ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেকে অনুমোদনের পর ঢাকা মহানগরজুড়ে স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকরের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিক সাফল্যের তথ্য দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ষাট হাজার পাঁচ শত আটানব্বইটি সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে মোট আঠারো হাজার চল্লিশটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আঠারো হাজার আট শত আটান্ন জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া মহাসড়কে দূরপাল্লার অনুমোদনহীন স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধন বাতিল করা হচ্ছে।
একই অধিবেশনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নদীভাঙনের কবলে পড়ে প্রতি বছর দেশে গড়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি পরিবার ও পনেরো হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। শ্রমশক্তি জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, দেশে বর্তমানে কর্মক্ষম শ্রমশক্তির সংখ্যা প্রায় সাত কোটি সতেরো লাখ এবং প্রতি বছর প্রায় সাড়ে তেরো লাখ নতুন মুখ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন