মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,

দেশেই সাশ্রয়ী স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগে নতুন দিগন্ত

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

দেশেই সাশ্রয়ী স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগে নতুন দিগন্ত

ছবি: সংগৃহীত

দেশেই সাশ্রয়ী স্মার্টফোন উৎপাদনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তির মূলধারায় যুক্ত করার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবর মাস থেকেই স্থানীয় কারখানায় স্বল্পমূল্যের এই আধুনিক ডিজিটাল ডিভাইস সংযোজন শুরু হতে যাচ্ছে। দেশের প্রান্তিক কৃষক, কৃষিশ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে এসব হ্যান্ডসেটের কার্যকর মূল্য দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে রাখার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পাঁচ কোটি নতুন গ্রাহক পাবে দ্রুতগতির ইন্টারনেট। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষকে স্মার্টফোন সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় সাত কোটি মানুষের কোনো স্মার্টফোন নেই এবং জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ এখনও সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করছেন। প্রযুক্তিগত এই বৈষম্য দূর করতেই স্থানীয় উৎপাদনের এই সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

উপদেষ্টার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে একটি সাশ্রয়ী স্মার্টফোন তৈরির মোট উৎপাদন ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৫ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ডিসপ্লে স্ক্রিনে ১৭ ডলার, মাদারবোর্ড ও প্রসেসরে ২৩ ডলার এবং ব্যাটারি ও বহিরাবরণে প্রায় ১৬ ডলার ব্যয় হবে। কাঁচামাল আমদানি ও কর অব্যাহতি সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি সেটে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিতে সম্মত হয়েছে। এতে হ্যান্ডসেটের প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার আশপাশে রাখা সম্ভব হবে।

ডিভাইসের চূড়ান্ত দাম ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতায় রাখতে সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি টেলিকম অপারেটর ও ব্যাংকিং খাতকে একীভূত করা হয়েছে। তিনটি শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিটি নতুন সেটের সঙ্গে প্রথম তিন মাসের জন্য বিনামূল্যে ডাটা ও ভয়েস প্যাকেজ সরবরাহ করবে। এর ফলে অপারেটরদের অফার ও প্রস্তুতকারকের ভর্তুকি সমন্বয় করে একজন গ্রাহকের জন্য কার্যকর খরচ নেমে আসবে দুই থেকে তিন হাজার টাকায়।

ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি আরও সহজ করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কিস্তিতে ফোন ক্রয়ের পূর্ববর্তী বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী আনুমানিক দুই কোটি নাগরিককে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে ফোন পৌঁছে দিতে সরকারের সার্ভিস অবলিগেশন ফান্ডের এক হাজার ২০০ কোটি টাকার তহবিল ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কারখানায় উৎপাদিত প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু সেট খুব দ্রুত বাজারে এলেও ডিলারদের মাধ্যমে দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু হবে আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে।