শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১২:২০ এএম

৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

আমদানি করা গ্যাস সংরক্ষণের জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট গ্যাস সংকট সাময়িক বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। গত সপ্তাহ থেকেই সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন সময় লাগবে। রাজধানীর গুলশানে ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মন্দিরে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। এ সময় জ্বালানি সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান জানান, বিদেশ থেকে আমদানি করা গ্যাস সাগরে সংরক্ষণের জন্য দুটি বিদেশি জাহাজ নিয়োজিত ছিল, যার একটিতে সম্প্রতি অপ্রত্যাশিতভাবে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে অপর জাহাজটির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ায় পাইপলাইনে সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।

অবৈধভাবে পাইপলাইন থেকে গ্যাস উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একটি অসাধু চক্র অবৈধ মেশিনের সাহায্যে জোর করে গ্যাস তুলে নিজেদের লাভবান করছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য চরম কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে শুধু সরকার একা সফল হতে পারবে না, সকলের সম্মিলিত প্রতিরোধ প্রয়োজন। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেল চুরির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

চলমান বৈশ্বিক সংকটের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। সরকার গঠনের পরপরই এই প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করে। জনগণের ওপর চাপ কমাতে সরকার দীর্ঘসময় ধরে জ্বালানির দাম বাড়ানো থেকে বিরত ছিল। কিন্তু কিছু অসংযত ব্যবহারের কারণে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তেলের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। অতীতে স্বৈরাচারী সরকার দেশের জ্বালানি খাতকে সম্পূর্ণ বিদেশ-নির্ভর করে রেখেছিল এবং দেশীয় অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে অকার্যকর করে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিদেশি নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার বাপেক্সকে পুনরুজ্জীবিত করার বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। গ্যাস অনুসন্ধান একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া হলেও সরকার দেশজুড়ে ১৩০টি নতুন কূপ অনুসন্ধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এছাড়া দেশের মানুষের সম্পদ রক্ষায় বিগত আমলে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এনে তা জনগণের কল্যাণে ব্যয় করার কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি ও শিক্ষার প্রসারে সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে চালুর পাশাপাশি বর্তমান সরকার নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে চলতি বছরের নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪১ লাখ নারীর হাতে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফসহ নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।