মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,

কিডনি চিকিৎসার নতুন দিগন্ত

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম

কিডনি চিকিৎসার নতুন দিগন্ত

ছবি: দিনাজপুর টিভি গ্রাফিক্স

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় ও দুর্ভোগ কমাতে সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাঁচ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ জনবলের অভাব দূর করতে উভয় ক্ষেত্রে দুই হাজার ৫০০টি করে মোট পাঁচ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। প্রান্তিক মানুষের জন্য প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ১২০ জনকে নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জন অংশ নিচ্ছেন। শিগগিরই সিলেটসহ অন্যান্য অঞ্চলেও এই প্রশিক্ষণ ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং নতুন নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপন করা হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের থেকে এই কোর্সের জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের সরকারি চাকরিতে কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতা এবং বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর নির্ধারণ করা হয়। এর আগে গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত হয়। পরবর্তীতে ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী পাঠানো হয়। চলতি বছরের ২০ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময়ও প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি জেলায় ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

বর্তমানে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবার সিংহভাগই রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক। বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, দেশে থাকা প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টারের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই ঢাকায় অবস্থিত। অন্যদিকে কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির তথ্যমতে, দেশে প্রায় তিন কোটি ৮০ লাখ মানুষ নানা ধরনের কিডনি জটিলতায় ভুগছেন, যার মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগীর জন্য ডায়ালাইসিস অপরিহার্য হয়ে ওঠে। বড় শহরে গিয়ে চিকিৎসার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় বহু রোগী বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেন। জেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলো সফলভাবে চলার তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়েও এই সেবা পৌঁছে দেওয়ার রূপরেখা নেওয়া হয়েছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই ৫০ থেকে ১০০ জনের ব্যাচভিত্তিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করবে। প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসকের ঘাটতি মেটাতে শিক্ষানবিস চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে পাশের জেলা বা উপজেলা থেকে শূন্যপদ পূরণ করা হবে। এ ছাড়া আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাব একনেকে পাঠানো এবং মিরপুরে একটি ৬০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন পেয়েছে।