সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। ওই সাক্ষাতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানও উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভ্রান্তি দূর করার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার পরিচালনার যে পাঁচটি আইন রয়েছে, তার কোনোটিতেই প্রার্থী হতে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির শর্ত রাখা হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে এই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য নয়। একই ধারাবাহিকতায় পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও কোনো শিক্ষাগত সনদের প্রয়োজন নেই।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার আইনে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের প্রার্থিতায় অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এর বিধি এগারোর সতেরোর খ উপধারায় বলা আছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা একই সাথে একাধিক লাভজনক পদে থাকতে পারবেন না। এই বিধিতে সরকারের দেওয়া যেকোনো বেতন, ভাতা ও সম্মানিকে লাভজনক পদ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা সমন্বয় করে প্রার্থিতার বৈধতা নির্ধারণ করবে। এই প্রক্রিয়ায় কমিশনের কোনো আইনি ব্যাখ্যা বা মতামতের প্রয়োজন হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় স্পষ্টীকরণ দেবে।
সংসদ সদস্য নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মীর শাহে আলম বলেন, দেশের সংবিধান ও নির্বাচনী আইনে সংসদ সদস্য হতেও কোনো নির্দিষ্ট ডিগ্রির শর্ত রাখা হয়নি। তাই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনি কাঠামোতেও একই গণতান্ত্রিক সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও একজন সমাজসেবক স্বশিক্ষিত হতে পারেন এবং তার মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার সহজাত মেধা থাকতে পারে। এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করলে নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন