সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
দেশের সর্বউত্তরের হিমালয়ঘেঁষা জেলা পঞ্চগড় থেকে সরাসরি সমুদ্রশহর কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চালুর বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মাঝপথে ট্রেন বদলানোর কোনো ঝামেলা ছাড়াই যাত্রীরা এক ট্রেনে পাড়ি দিতে পারবেন এক হাজার ৭৭ কিলোমিটার পথ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত দেশের দীর্ঘতম এই রেলরুট বাস্তবায়নের মেগা কর্মযজ্ঞ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে পরিকল্পনা দপ্তরের তথ্যমতে, এই বিশাল উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ দিতে হাতে নেওয়া হয়েছে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। পুরো এক হাজার ৭৭ কিলোমিটার রেলপথকে পর্যায়ক্রমে ব্রড গেজ বা ডুয়েল গেজ নেটওয়ার্কে রূপান্তর করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পূর্বাঞ্চলের টঙ্গী থেকে আখাউড়া, লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত রেলপথ আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলের সান্তাহার থেকে বগুড়া পর্যন্ত সংস্কার এবং বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নতুন ব্রড গেজ বা ডুয়েল গেজ লাইন নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
প্রকল্পগুলোর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-দোহাজারী ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ নির্মাণে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নজরদারি থাকায় করিডর আধুনিকায়নে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখাতে নারাজ প্রশাসন। আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে কিংবা বর্তমান সরকারের মেয়াদের ভেতরেই এসব কাজ শেষ করে ট্রেন চলাচলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে এখন মিটার গেজ যুগের অবসান ঘটছে। রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ব্রড গেজের জয়জয়কার বিবেচনায় রেখেই এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। নতুন এই রুটে প্রায় ২০টি আধুনিক আন্তনগর ট্রেনসহ মোট আড়াই শতাধিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এ জন্য রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল একযোগে কাজ করবে এবং নতুন ইঞ্জিন ও কোচসহ রোলিং স্টক সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
এই মেগা প্রকল্প কেবল যাত্রীদের যাতায়াতই সহজ করবে না, দেশের অর্থনীতি ও পর্যটনে অভাবনীয় পরিবর্তন আনবে। রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই রুটটি চালু হলে সংস্থার বর্তমান আয়ের অর্ধেকের বেশি আসবে কেবল এই একক করিডর থেকে। উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য এবং দক্ষিণাঞ্চলের লবণ ও শুঁটকি অতি দ্রুত এবং কম খরচে দেশের দুই প্রান্তে পরিবহন করা যাবে। অন্যদিকে, ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্যের পরিধি বাড়বে এবং কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচল প্রায় দশ গুণ বেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা খুব সহজেই একই যাত্রায় পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি ও সাগরের নীল জলরাশির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন