সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
প্রযুক্তিগত প্রবৃদ্ধি ও বহুমুখী রপ্তানি কাঠামোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সোমবার রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী `বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬`-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে তিনি দ্রুত পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত পুনর্প্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি টেকসই বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেন।
একক পণ্যের ওপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা যাবে না। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ২০২৯ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের পর যে তীব্র বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে, তা মোকাবিলার একমাত্র পথ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও বহুমুখী রপ্তানি খাত গড়ে তোলা। আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এগিয়ে নিতে গবেষণা, বৈজ্ঞানিক পুনর্জাগরণ ও প্রযুক্তির ধারাবাহিক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তবাজার শিল্পনীতি এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে প্রাতিষ্ঠানিক নানা উদ্যোগের ফলেই দেশে পোশাক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে।
উদ্ভাবক ও গবেষকদের সার্বিক সহযোগিতার স্বার্থে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক গবেষণা ও উদ্ভাবন তহবিল গঠনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তৈরির আহ্বান জানান তিনি। বেসরকারি খাত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তারা এই তহবিলে অংশ নিলে সরকার কর ছাড়সহ প্রয়োজনীয় রাজস্ব সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। `সবার আগে বাংলাদেশ` দার্শনিক ভিত্তিকে সামনে রেখে তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন তরুণদের মেধা বিকাশে প্রতি বছর নিয়মিত এই উদ্ভাবনী মেলা আয়োজনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন প্রদর্শনীতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং ইতিমধ্যে বেশ কিছু পণ্য বাণিজ্যিকভাবে বাজারে এসেছে এবং ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশে রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিন দিনে মেলায় মোট ২০টি অ্যাকাডেমিক, মিডিয়া ও পলিসি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক স্টলের পাশাপাশি ৬৭১টি প্রাথমিক আবেদন যাচাই করে ৫০টি সেরা দলকে প্রদর্শনীতে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
সমাপনী দিনে বিচারক প্যানেলের মূল্যায়নে শীর্ষ দশ উদ্ভাবনকে পুরস্কৃত করা হয়।
নির্বাচিত শীর্ষ দশ উদ্ভাবন হলো হোমপিটাল নেক্সাস, স্মার্ট হুইলচেয়ার, ফায়ারফ্লাই, ভয়েস অ্যাসিস্ট ডিভাইস, বিডি সাইবার হেল্পলাইন, ওয়াটার রিপেলেন্ট জুট ফেব্রিক, প্রাকৃতিক আঁশযুক্ত পিসিবি, অ্যানটেনা ফর ন্যানোস্যাট, লিকুইড ট্রি এবং সেলফ কন্টাক্টর। এই শীর্ষ দশটি দলের প্রত্যেককে এক লাখ টাকার আর্থিক চেক হস্তান্তর করা হয়।
এ ছাড়া মেলায় সক্রিয় ও সফল উপস্থাপনার জন্য গাজী এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বিইউবিটি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এআইইউবি—এই পাঁচটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন