সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উভয় দেশের মধ্যে পেশাগত প্রশিক্ষণ বিনিময়ের ক্ষেত্রে পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এই সমঝোতা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দ্বিপক্ষীয় সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন এবং ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধির নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে তিনি বাংলাদেশে নিজের কূটনৈতিক দায়িত্বের মেয়াদ শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা ত্যাগ করবেন। একই সাথে তিনি চীনের মিনিস্টার অব পাবলিক সিকিউরিটির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। রাষ্ট্রদূত চীনের পাবলিক সিকিউরিটি বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈশ্বিক ফোরামে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের পারস্পরিক বৈঠক অনুষ্ঠান এবং অংশীদারত্ব আরও জোরদারের লক্ষ্যে চীন সফরের জন্য দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ বার্তাটি হস্তান্তর করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উভয়েই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলার গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বিগত দুই বছরে চীন বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর শতাধিক সদস্যকে সাইবার অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক ও পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অভিবাসন প্রক্রিয়া এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য আন্তর্জাতিক মানের উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। চীনের এই ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে একটি বিশেষায়িত সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠন এবং এর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশের থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ইউনিট পর্যন্ত আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব এবং সুসজ্জিত সাইবার ল্যাব প্রতিষ্ঠার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বর্তমানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বৈঠকে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে চীনা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ল্যাব পরিদর্শন এবং প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশকে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরামর্শ দেন রাষ্ট্রদূত।
সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল শিগগিরই চীন সফর করবে। এই বিশেষ দলে একজন অতিরিক্ত আইজিপি, একজন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং সাইবার ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। দলটি চীনের সাইবার ল্যাব ও নজরদারি প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণ করে দেশে উন্নত ফরেনসিক ল্যাব ও প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জামাদি স্থাপনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও প্রস্তাব তৈরি করবে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বৈঠকে উল্লেখ করেন যে চীন বর্তমানে বাংলাদেশের এক নম্বর উন্নয়ন সহযোগী এবং শীর্ষ সরাসরি বিনিয়োগকারী দেশ। এই বাস্তবতার আলোকে তিনি বাংলাদেশে কর্মরত সমস্ত চীনা নাগরিক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চান। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চীন কেবল আমাদের শীর্ষ বিনিয়োগকারীই নয়, আমাদের অন্যতম প্রধান কৌশলগত উন্নয়ন অংশীদার। তিনি বাংলাদেশে বসবাসরত ও মেগা প্রকল্পে কর্মরত সকল চীনা নাগরিক, ব্যবসায়ী এবং উন্নয়ন কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যসূত্র: বাসস

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন