বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে দুর্নীতিতে ছাড় নেই: ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে দুর্নীতিতে ছাড় নেই: ডেপুটি স্পিকার

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। সরকারি এই সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের তালিকা প্রণয়নে সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র, সহায়-সম্বলহীন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। রবিবার বিকেলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ফ্যামিলি কার্ড ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জরিপের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন। 

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন। তালিকা তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো পাকা দালানের মালিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত না করার নির্দেশ দেন তিনি। তথ্য সংগ্রহকারীদের মাঠপর্যায়ের কাজের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের মূল কাজ শুরু করতে হবে ছাপরা ঘর থেকে। তথ্য সংগ্রহকারীদের সরাসরি নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর উঠোনে যেতে হবে, চরম অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং যার মাথা গোঁজার নিজস্ব বসতঘর পর্যন্ত নেই, তার তথ্য তালিকার সবার প্রথমে লিপিবদ্ধ করতে হবে। 

সরকার এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রত্যেক সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে নিয়মিত কাজের ভাতা প্রদান করছে উল্লেখ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই নির্ধারিত ভাতার বাইরে গিয়ে যদি কেউ স্বজনপ্রীতি বা কোনো আর্থিক অনিয়মে জড়ান, তবে দুটিই গুরুতর ও সমমানের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো যেন কোনোভাবেই সরকারি এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অতীত অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে উল্লেখ করেন যে, অতীতে কলমাকান্দা অঞ্চলে যারা ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা তৈরির প্রাথমিক কাজ করেছিলেন, তারা হয়তো টাকার বিনিময়ে কার্ড বিতরণ করেননি, তবে দায়িত্ব পালনে তাদের মধ্যে পেশাগত সততা ও আন্তরিকতার বড় ধরনের ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছিল। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করার লক্ষ্যেই এবার কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া মাঠের কর্মীদের সাথে সরাসরি বসে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন দেওয়া হচ্ছে। তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্য, রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত আত্মীয়তা কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কোনো অন্যায্য চাপ আমলে নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে তিনি ঘোষণা করেন।

নির্বাচনের আগে সাধারণ ভোটারদের কাছে দেওয়া প্রতিটি উন্নয়ন অঙ্গীকার তিনি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। অনুষ্ঠানে কলমাকান্দা অঞ্চলের সমতল ও সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদে বসবাসরত পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন ডেপুটি স্পিকার। বিশেষ করে গারো ও হাজং সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের শিক্ষা সংকট, সুপেয় ও নিরাপদ পানীয় জলের তীব্র অভাব এবং জরাজীর্ণ বাসস্থান সংকট নিরসনে সরকারের বিশেষ উন্নয়ন উদ্যোগের কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। এই জনগোষ্ঠীর জীবনমান জরিপের কার্যক্রমে নিয়োজিত স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের সততা ও নিখুঁত নিষ্ঠার সাথে প্রতিটি পরিবারের প্রকৃত সামাজিক অবস্থা নথিবদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় তৃণমূল পর্যায়ে সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং বৃদ্ধির কারণে জনসাধারণের ভোগান্তির বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে আলোচনায় আসে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় ব্যক্তিগত দুঃখ প্রকাশ করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি সংকট চলাকালে গৃহস্থালি ও দাপ্তরিক কাজে দিনের প্রাকৃতিক আলোকে সর্বোচ্চ ব্যবহারে সবাইকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান এবং এই জ্বালানি সংকট অচিরেই সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।