শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

মুন্সিগঞ্জে শীতকালীন সবজির বীজতলায় ব্যস্ত কৃষকরা, চারা যাচ্ছে দেশের ২৫ জেলায়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৮, ২০২৫, ০৭:১৬ পিএম

মুন্সিগঞ্জে শীতকালীন সবজির বীজতলায় ব্যস্ত কৃষকরা, চারা যাচ্ছে দেশের ২৫ জেলায়

শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদনে দেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ জেলা হিসেবে পরিচিত মুন্সিগঞ্জ। মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল, পঞ্চসার, মহাখালী, বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন এবং টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ধামারণ, আলদি, কাঠাদিয়া, আব্দুল্লাহপুর, বেতকা গ্রামসহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষকরা বর্তমানে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদনে বীজতলা প্রস্তুত ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এই অঞ্চলগুলোতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, টমেটো, ব্রকলি, কুমড়া ও বেগুনের চারা উৎপাদিত হয়। কৃষকরা জানান, মুন্সিগঞ্জের মাটির গুণাগুণ ভালো হওয়ায় এবং তারা নিচু মাটি মুড়ি দিয়ে সার ও মাছ দিয়ে সুন্দরভাবে বীজতলা তৈরি করার কারণে এখানে উৎপাদিত চারা খুব কম নষ্ট হয়।

তারা আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে বীজতলা প্রস্তুত শুরু করেন এবং চারা উৎপাদন ও বিক্রি চলে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। বীজ বোনার পঁচিশ দিনের ব্যবধানেই তারা চারা বিক্রি করে থাকেন এবং প্রতিটি বীজতলা থেকে তিন থেকে চার বার পর্যন্ত চারা উৎপাদন করা সম্ভব হয়। তবে চলতি বছর অতিবৃষ্টির কারণে কিছু কৃষকের বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এবং বীজের দামও গত বছরের তুলনায় বেশি বলে জানান।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর ৮.৮ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন শাক-সবজির চারা উৎপাদিত হয়েছে। তাদের মতে, মুন্সিগঞ্জের উৎপাদিত চারা স্থানীয় কৃষকের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি দেশের প্রায় ২৫টি জেলায় সরবরাহ করা হয় এবং এসব চারার গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে এর কদর রয়েছে। তারা আরও জানান, আবহাওয়ার কারণে বৃষ্টিপাত হলেও মুন্সিগঞ্জের কৃষকদের চারা উৎপাদনে তেমন সমস্যা হয়নি, কারণ তারা শেড ব্যবহার করেন এবং জমিতে বেড তৈরি করে চারা উৎপাদন করেন, ফলে নিষ্কাশন নালা ভালো থাকায় বৃষ্টির পানি জমতে পারেনি। অতিবৃষ্টি ও বীজের দাম বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার পরও এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার কিছুটা লাভের প্রত্যাশা করছেন।