নভেম্বর ২০, ২০২৫, ১১:৫০ পিএম
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে চলতি বছর আগাম টমেটোর বাম্পার ফলন হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বাঁশখালীতে মোট ৩০০ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে।
কৃষি অফিসের সার্বক্ষণিক তদারকি ও যথাযথ পরামর্শের কারণে চাষিরা এবার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফলন ফলাতে সক্ষম হয়েছেন।
এই সফলতার ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত টমেটো এখন জেলা শহরেও রপ্তানি হচ্ছে। প্রান্তিক চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে টমেটো চাষের দিকে আরও বেশি ঝুঁকছেন।
উপজেলার প্রায় প্রত্যেক ইউনিয়নে কমবেশি টমেটো চাষ হলেও পশ্চিমাঞ্চল তথা সাগর উপকূলীয় এলাকাগুলো, যেমন গন্ডামারা, বড়ঘোনা, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, ছনুয়া ও কাথরিয়া ইউনিয়নে বিশাল এলাকা জুড়ে টমেটো ক্ষেতের দেখা মেলে। গন্ডামারার একজন টমেটো চাষি আবদুর রহমান জানান, তার নিজস্ব জমি না থাকলেও ৪০ শতক জমি বর্গা নিয়ে তিনি টমেটো চাষ করেছেন এবং আল্লাহর রহমতে ফলন প্রচুর হয়েছে। আরেক চাষি নুরুল আলম জানান, কৃষি অফিসের সার্বিক পরামর্শে চাষ করায় ফলন ভালো হয়েছে এবং বর্তমানে নতুন টমেটো তারা ১০০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে দেশে বারি-৪, ৫, ৮, নিউ রুপালী ১, প্রফট আর্লি, বাহুবলী, টিপু সুলতান, দুর্জয়, রোমা ভি এফ, গ্রেট পেলে সহ বিভিন্ন জাতের টমেটোর চাষ হলেও বাঁশখালীতে প্রফিট আর্লি, বারি, বাহুবলী এবং দুর্জয় জাতের টমেটোর চাষ বেশি হয়েছে। গন্ডামারা ইউনিয়নের প্রান্তিক টমেটো চাষি জাহাংগীর আলম ও আব্দুল মান্নান এর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কানি (৪০ শতক) টমেটো চাষ করতে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা ব্যয় হয়।
মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে টমেটো বিক্রি করে খরচের টাকা উঠে এসেছে এবং বাকি সময়ের বিক্রির টাকা তাদের লভ্যাংশ হিসেবে জমা থাকবে। তবে চাষিরা জানান, একদিন অন্তর ক্ষেতে কীটনাশক ছিটাতে হয় এবং সময়মতো সার প্রয়োগ করতে হয়, আর শ্রমিকের মজুরি, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় তাদের ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। চলতি মৌসুমে প্রফিট আর্লি ও দুর্জয় এই দুই জাতের ফলনই সবচেয়ে ভালো হয়েছে এবং প্রথম দিকে প্রতি কেজি টমেটো
১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা কেজি প্রতি ১০০ থেকে ৮০ টাকায় পাইকারি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হচ্ছে। বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, উপজেলা জুড়ে ৩০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে এবং প্রতি হেক্টর জমিতে ৪০ থেকে ৫০ টন টমেটো উৎপাদিত হবে বলে তারা আশাবাদী। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ থাকায় পর্যাপ্ত ফলন হয়েছে এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় কৃষকরাও অত্যন্ত খুশি।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন