শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

মেহেরপুরে আমন ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২১, ২০২৫, ০৭:৪০ পিএম

মেহেরপুরে আমন ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

মেহেরপুর জেলার গ্রামীণ জনপদে এখন চলছে আমন ধান কাটার ভরা মৌসুম। মাঠজুড়ে সোনালি ধানের ঢেউ এবং কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক নিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে কৃষক-শ্রমিকেরা কাঁচি ও ধানকাটা যন্ত্র হাতে জমিতে নেমে পড়ছেন।

কোথাও আবার দল বেঁধে ধান কাটার ফাঁকে গান-বাজনা আর আড্ডাও চলছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছরের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে।

ফলে ব্যস্ততার মাঝেও তাদের মুখে তৃপ্তির ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কাটার পর ধান মাড়াই, শুকানো ও গোলায় তোলার কাজও চলছে সমানতালে। অনেক পরিবারে ধান কাটার দিনটিকে কেন্দ্র করে আত্মীয়-স্বজনের সমাগম ঘটে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সঞ্জীব মৃধা জানান, জেলায় এবার ২৬,৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর বিপরীতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। গত বছরের তুলনায় এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি মণ ধান পাইকারী ১১০০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই হিসেবে চলতি মৌসুমে প্রায় ৩২ কোটি টাকার ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে ভালো। সদর উপজেলার ঝাউবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আয়ুব আলী জানান, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছেন। চাষ, চারা রোপণ ও পরিচর্যায় শ্রমিক খরচ বেড়ে প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যা গতবারের চেয়ে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেশি। তিনি বিঘা প্রতি ১৬ থেকে ২০ মণ ফলন পেয়েছেন বলে জানান।

এছাড়া গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে বিচালির চাহিদা বেশি থাকায় প্রতি বিঘা জমির বিচালিও ১০ থেকে ১১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, গাংনী উপজেলার কৃষক তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি ৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। যদিও এ বছর জমিতে তেমন সেচ দিতে হয়নি, তবে পোকার আক্রমণে দিশেহারা হলেও কয়েকবার কীটনাশক ছিটিয়ে তা থেকে রক্ষা পান। কৃষকরা বলছেন, এই আমন কাটার মৌসুম শুধু কৃষিকাজের নয়, এটি গ্রামীণ ঐতিহ্যেরও উৎসব, যা তাদের জন্য বছরের সবচেয়ে আনন্দের সময়।