নভেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৮:২৮ পিএম
লালমনিরহাটে এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলনের আভাসে মাঠজুড়ে সোনালি রঙের মনোরম দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ধান কাটার মৌসুম শুরু হওয়ায় জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। বিগত সময়ে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় সামান্য ক্ষতি হলেও সামগ্রিকভাবে কৃষকরা ফলন নিয়ে আশাবাদী।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ৮৬ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ করা হয়েছে। খরিফ-২ মৌসুমে উৎপাদিত চালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৯১৬ টন।
মাঠে ফলন ভালো হলেও, কৃষকরা লাভ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কৃষক সুনীল চন্দ্র রায় (৬৬) জানান, এই মৌসুমে তার এক বিঘা জমিতে ধান চাষে মোট ব্যয় প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা।
অথচ তিনি ধান পাবেন সর্বোচ্চ ১৭ মণ পর্যন্ত, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৯ হাজার ৫৫০ টাকা। এত সময় ব্যয় করে যে লাভ থাকে, তা খুব বেশি মনে হয় না।কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষক মমিনুল ইসলাম (৪২) বলেন, শ্রমিকরা প্রতি একর জমির ধান কেটে বাড়িতে মাড়াই করার জন্য একর প্রতি প্রায় ১৫ হাজার টাকা নেন। সবকিছুর হিসাব করলে লাভের তেমন কিছুই থাকে না। অন্যদিকে কৃষক বদিয়ার রহমান ও আব্বাস আলী জানান, ধানের বাজার ভালো থাকলেও শ্রমিক সংকট এখন তীব্র।
শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ধান বিক্রির পর অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।বড়বাড়ী বাজারের ধান ব্যবসায়ী মানিক মহাজন জানান, বর্তমানে বাজারে কাঁচা ধান প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ধানের দাম আরও বাড়তে পারে।লালমনিরহাট সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ জানান, রোপা আমন চাষে কৃষকদের নিয়মিত সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন জানান, অনেকটা অনুকূল আবহাওয়া ও প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে এ বছর ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা অনেক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ধান বাজারে আসলে চালের মূল্যও স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন