রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

স্ট্রবেরিতে বাজিমাত বিদেশ ফেরত বগুড়ার হাসানের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৭:২৯ পিএম

স্ট্রবেরিতে বাজিমাত বিদেশ ফেরত বগুড়ার হাসানের

ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় কয়েকবার বিদেশ গিয়েও ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছিলেন বগুড়া সদরের যুবক এম এ হাসান। এরপর দেশের মাটিতে নতুন কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেন বিভিন্ন ফলের আবাদ। কয়েক বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও লোকসানের পর ভাগ্যের চাকা ঘোরায় বিদেশি সুস্বাদু ফল স্ট্রবেরি।

এখন তার বার্ষিক আয় অর্ধকোটি টাকা।হাসান সদর উপজেলার লাহিরীপাড়া ইউনিয়নের রায় মাঝিড়া গ্রামের বাসিন্দা। এই গ্রামেই ১৬ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন নিজের শালিন এগ্রো ফার্ম। এর মধ্যে শুধু ৭ বিঘা জমিতে চাষ করছেন স্ট্রবেরি ফল।

তরুণ এই উদ্যোক্তার যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সালে, যখন তিনি ২ বিঘা জমিতে পেঁপে ও স্ট্রবেরিসহ মিশ্র ফলের চাষ শুরু করেন।

প্রথম ৪ বছর কোনো লাভের মুখ দেখতে পাননি। এই সময়টা তিনি স্ট্রবেরি থেকে চারা উৎপাদন এবং নতুন নতুন জাত আবাদ করতে থাকেন। এরপর অবশ্য তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অন্য ফলের চাষ ছেড়ে পুরোদস্তুর স্ট্রবেরি চাষে মন দেন।হাসান তার বাগানে কয়েকটি জাতের স্ট্রবেরি চাষ করছেন, যার মধ্যে উইন্টার ডন, মন্টিয়ার, আমেরিকান ফেস্টিভাল ও এফ-২১ জাতগুলোর ফলন সবচেয়ে ভালো।হাসান জানান, মূলত সারাবছর চারা বিক্রি করেন, তবে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চারা রোপনের উপযুক্ত সময় হওয়ায় এই সময় বেশি চারা বিক্রি হয়।

চারা বিক্রি: প্রতি চারা জাত ভেদে ১০-৪০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়। অফ সিজনে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায় প্রতি চারা বিক্রি হয়েছে।ফলন ও মূল্য: জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ফলন মেলে। মৌসুমে প্রতি গাছে ১ থেকে দেড় কেজি ফল পাওয়া যায়। প্রতি কেজি ফল জাত ভেদে ৩০০-১০০০ টাকায় বিক্রি হয়।বার্ষিক আয়: "৩০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ২ বিঘা জমিতে শুরু করেছিলাম। এখন এই স্ট্রবেরির বাগানের পরিমাণ ৭ বিঘা। বছরে অন্তত অর্ধকোটি টাকার চারা ও ফল বিক্রি হয় এই বাগান থেকে।"শালিন এগ্রো ফার্মে স্থানীয় ১৬ জন কৃষক ও তরুণদের কর্মসংস্থানও হয়েছে। প্রতিটি শ্রমিক কাজ করেন দিন ৬০০ টাকা মজুরিতে।

হাসানের সফলতার পেছনে নিজের পরিশ্রম ও ধৈর্যের পাশাপাশি ছিল পরিবারের উৎসাহ। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তিনি জানান, ব্যবসা বা কৃষিতে সময় দিলে টাকা আসবেই, এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য।হাসান আরও বলেন, তিনি শুধু চারা বিক্রি করেন না। স্ট্রবেরি গাছ পরিচর্যার নিয়মকানুন, ওষুধের ব্যবহার এসব বিষয়ে পরামর্শও দিয়ে থাকেন, যাতে অন্য উদ্যোক্তাদের তার মতো সমস্যায় না পড়তে হয়।