নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৭:৪৮ পিএম
রাজশাহী অঞ্চলে একই জমিতে ফল ও অন্যান্য ফসল বা সবজি একসঙ্গে চাষ করার মিশ্র ফল চাষ পদ্ধতি এখন জনপ্রিয় ও লাভজনক হয়ে উঠেছে। এই আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জমির গুণগত মানও ভালো থাকছে।
এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রজাতির আম, মাল্টা, লেবু, এমনকি ড্রাগন ফলের মতো নতুন ফসলও চাষ করা হচ্ছে।একই জায়গা থেকে আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে চাষিরা একই জমিতে একাধিক ফলগাছের সঙ্গে নানা ফসল রোপণ করছেন।
আয় বৃদ্ধি: চারঘাট উপজেলার বাসিন্দা জামাল হোসেন জানান, মিশ্র ফসল পদ্ধতি মোট উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের অতিরিক্ত আয় এনে দেয়।
মাটির স্বাস্থ্য: এটি মাটির উর্বরতা ও স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং আমের ফলন বা গুণগত মানের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।কর্মসংস্থান: নিবিড় ফসল উৎপাদনের ফলে অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে সক্রিয় করছে।
প্রকৌশলী সরওয়ার জাহান: পবা উপজেলার এই কৃষি উদ্যোক্তা ৯ বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান করেছেন। এ মৌসুমে তিনি একই জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও কাঁচা মরিচ চাষ করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে মরিচ বিক্রি করে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা এবং মাল্টা বিক্রি করে প্রায় ৬০ হাজার টাকা আয় করেছেন।মোফাক্কার হোসেন: পুঠিয়াপাড়া গ্রামের এই মাদ্রাসা শিক্ষক তিন বিঘার ড্রাগন ফলের বাগানে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শুধু ধানের ওপর নির্ভর করে থাকা কৃষকরা সমস্যায় পড়ছিলেন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা আমগাছের সঙ্গে ধান, পেঁয়াজ, রসুন, বেগুন, সরিষা, হলুদ ও পেঁপে চাষ করছেন।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান জানান, কৃষকদের আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছে, কারণ তারা কম সময়ে বেশি লাভ পাচ্ছেন। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে মিশ্র পদ্ধতিতে সবজি চাষ হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন