বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

লোকসানের বোঝা নিয়েও উত্তরের কৃষকরা আলু চাষে ব্যস্ত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ০৭:০৫ পিএম

লোকসানের বোঝা নিয়েও উত্তরের কৃষকরা আলু চাষে ব্যস্ত

গেল বছরের মোটা অঙ্কের লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে আবারো আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন উত্তরের কৃষকরা, তাদের আশা যদি এবার দর ভালো পান তাহলে হয়তো কিছুটা কমবে লোকসানের বোঝা।

 তবে ভারসাম্যহীন বাজার ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, বন্যা এবং দীর্ঘ খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের কৃষি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ।

 

কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তায় সরকারের তরফ থেকে এখনো কোনো কার্যকরী উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে; বড় বড় কল কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ।

সরকার তাদের টাকা দিলেও বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়া কিংবা পোকার আক্রমণে ক্ষতি হলেও কৃষকদের কোনো কিছুই দেওয়া হয় না এবং অনেক কৃষক তাদের নিজের সবকিছু ত্যাগ করে আবাদ-সুবাদের কাজ করছেন।

 কিন্তু তাদের দেখভাল করার কেউ নেই বলে জানা গেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বা আইডিআরএ'র তথ্যমতে, প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোট উৎপাদনের ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ফসলহানি হচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে গবেষকদের মতে কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই সরকারিভাবে তাদের বীমার আওতায় আনতে হবে, কারণ যদি কৃষকদের বীমার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়, তাহলে প্রতিবছর কৃষকরা যে পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করে পণ্য উৎপাদন করেন সেই ঝুঁকিটা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

যদিও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে, কৃষকদের জন্য কৃষি বা শস্য বীমা না থাকলেও যেকোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা করছেন তারা এবং প্রণোদনা হলো কৃষকদের উৎসাহ যোগানো, তাই সরকার কোনো না কোনো ফর্মে সব সময় কৃষকের পাশে আছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, যে খাতে দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪২ শতাংশ নিযুক্ত এবং দেশের জিডিপিতে যার অবদান প্রায় ১৪ শতাংশ, সেই খাতের অন্যতম চালক কৃষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় একটি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক, অন্যথায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বলয় ঝুঁকিতে পড়বে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সিন্ডিকেটের কারসাজিসহ নানামুখী চাপের কারণে কৃষকরা যখন টিকে থাকার লড়াই করছেন, তখন কেন দীর্ঘ সময়ে কৃষকদের বীমার আওতায় আনা সম্ভব হলো না সেই প্রশ্ন উঠেছে এবং গবেষকরা বলছেন কৃষকদের ঝুঁকি কিংবা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে যত দ্রুত সম্ভব শস্য কিংবা কৃষি বীমা চালু করাই এখন সময়ের দাবি।