জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
দিনাজপুরের বিরলে আলু ক্ষেতে নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারও আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিলেও বাজারের বর্তমান মূল্যে চরম হতাশায় ভুগছেন চাষীরা। তবে কৃষি অফিস জানিয়েছে, এবারও বিদেশে আলু রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
বিরল উপজেলা আলু উৎপাদনের জন্য জেলায় সুপরিচিত। প্রতি মৌসুমে এখানে উৎপাদিত আলু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
কিন্তু গত মৌসুমে আলুর আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় অনেক চাষী হিমাগারের ভাড়া চুকিয়ে আলু তুলতে পারেননি। এবারও আগাম জাতের আলু উত্তোলনের পর দেখা যাচ্ছে প্রতি কেজিতে কৃষকের খরচ উঠছে না।
সরেজমিনে ব্রহ্মপুর গ্রামের কৃষক ইনছান আলী জানান, বর্তমানে খোলা বাজারে ডায়ামন্ড, কার্ডিনাল বা লেডিরোসেটা জাতের নতুন আলু কেজি প্রতি মাত্র ১৮ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল পাকড়ি বা শিল বিলাতি আলু বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ টাকায়। পাইকারি বাজারে এই দাম আরও কম। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের চড়া মূল্যের তুলনায় আলুর এই দাম কৃষকদের জন্য লোকসান বয়ে আনছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, দিনাজপুর জেলায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়, যেখান থেকে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়। গত মৌসুমে নেপাল, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন আলু রপ্তানি হয়েছে। এবারও আরও বড় পরিসরে রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।"
কৃষি বিভাগ মনে করছে, সরাসরি রপ্তানি কার্যক্রম জোরদার করা গেলে কৃষকরা আলুর ন্যায্যমূল্য পাবেন। বর্তমানে ভালো ফলন নিশ্চিত করতে চাষীদের কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কৃষি অফিস।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন