শাহিদা বিবি খানম
জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ১১:১৪ এএম
দেশের উত্তরের কৃষিনির্ভর অঞ্চল রংপুর ধান, আলু ও ভুট্টা উৎপাদনে বিপ্লব ঘটালেও বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সংকটে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ফলন বাড়লেও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও হিমাগার সংকটে কাঙ্ক্ষিত লাভ কৃষকের ঘরে পৌঁছাচ্ছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি রবি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে রেকর্ড ৩২.৩ লক্ষ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬ লক্ষ টন বেশি। ১ লাখ ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হওয়া এই ফসলের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ২৬.৯৮ টন।
এছাড়া ধান উৎপাদনেও এ অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে; চলতি মৌসুমে ৫৩ লাখ টনের বেশি ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।তবে এই সাফল্যের উল্টো পিঠে রয়েছে উৎপাদন খরচের বোঝা।
সার, বীজ, সেচ ও শ্রমের দাম বাড়লেও কৃষকরা মাঠপর্যায়ে ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। বর্তমানে ৬০ কেজির এক বস্তা আলু পাইকারি বাজারে ৭২০ থেকে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে এর দাম কেজিপ্রতি ২৫-৩২ টাকা। এই বিশাল মূল্য ব্যবধান নির্দেশ করে যে, লভ্যাংশ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।সংকট আরও ঘনীভূত করছে হিমাগারের অভাব। রংপুর অঞ্চলে ৭১টি কোল্ড স্টোরেজের ধারণক্ষমতা মাত্র ৭.৩ লাখ টন, যা মোট উৎপাদনের তুলনায় খুবই সামান্য। ফলে বাধ্য হয়েই ভরা মৌসুমে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের।
এর সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি কৃষিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, রংপুর অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা এবং আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ বৃদ্ধি করা জরুরি। সরাসরি কৃষক-বাজার সংযোগ এবং স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উত্তরের এই কৃষি অর্থনীতি জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে।