মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্তে প্রথমবারের মতো জিরা চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন সাতকুড়ী গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান। নিজের মাত্র ৩ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই মসলা জাতীয় ফসলের আবাদ করে তিনি সফল হয়েছেন। হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজিনা বেগম বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে আধুনিক পদ্ধতি ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন হামিদুর।
তিনি অনলাইনে জিরার বীজ সংগ্রহ করে বপন করেছিলেন এবং প্রথমবারই প্রায় ৫ কেজি জিরার ফলন পেয়েছেন। তার এই সাফল্য অত্র অঞ্চলের তরুণ ও যুবক কৃষকদের মধ্যে নতুন করে জিরা চাষে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।কৃষক হামিদুর রহমান জানান যে তাদের এলাকায় আগে কখনো জিরার চাষ না হলেও তিনি নিজ উদ্যোগে এই ঝুঁকি নিয়েছিলেন।
তার উৎপাদিত জিরার মান বাজারের আমদানিকৃত জিরার চেয়ে অনেক উন্নত এবং সুঘ্রাণযুক্ত। হিলি বাজারে বর্তমানে ভারত থেকে আসা জিরা প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও হামিদুরের উৎপাদিত জিরা আরও ভালো মানের বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম।
তিনি নিজেও আগামীতে এই লাভজনক ফসল চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং অল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় এটি অত্র অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নতুন আশীর্বাদ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।হাকিমপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান যে অনলাইনের মাধ্যমে বীজ সংগ্রহ করে নতুন ফসল চাষ শুরু করা সত্যিই একটি প্রশংসনীয় কাজ।
সীমান্ত এলাকার এই সাফল্য অন্য কৃষকদেরও আধুনিক চাষাবাদে উৎসাহিত করবে। এদিকে দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানিয়েছেন যে উন্নত বীজ ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমেই এই ফলন নিশ্চিত হয়েছে। কৃষি বিভাগ এখন থেকে স্থানীয় কৃষকদের মসলা জাতীয় ফসল চাষে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের কাজ শুরু করেছে। দেশীয় মাটিতে জিরার এই সফল উৎপাদন ভবিষ্যতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন