শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে হিলির কৃষকদের নতুন সম্ভাবনা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২, ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম

পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে হিলির কৃষকদের নতুন সম্ভাবনা

হিলিতে পেঁয়াজ বীজের ক্ষেত পরিচর্যা করছেন কৃষক ছবি-দিনাজপুর টিভি

দেশের বাজারে পেঁয়াজের বীজের উৎপাদন বৃদ্ধি ও চাহিদা মেটাতে দিনাজপুরের হিলিতে উন্নত জাতের তাহেরপুরী পেঁয়াজ বীজ চাষ শুরু হয়েছে। হাকিমপুর উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মাঠে এবারই প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে এই বীজ উৎপাদন শুরু হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। 

প্রতি শতক জমিতে দুই থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।বর্তমানে মাঠজুড়ে আড়াই ফুট লম্বা সবুজ পেঁয়াজ গাছের মাথায় সাদা গোলাকৃতির ফুল ফুটে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। 

ফুলে ফুলে ভরা এই ক্ষেত দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন। বাজারে পেঁয়াজের বীজের ভালো দাম ও চাহিদা থাকায় স্থানীয় চাষিরা এই লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।স্থানীয় কৃষক গোলাম মোস্তফা এই চাষের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন যে পেঁয়াজ চাষের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সঠিক পরাগায়ন। 

আগে পেঁয়াজ ক্ষেতে প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর পরিমাণে মৌমাছির দেখা মিলত যা পরাগায়নে সহায়তা করত। কিন্তু বর্তমানে ফসলি জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মৌমাছির উপস্থিতি অনেকটা কমে গেছে। এই প্রতিকূলতা কাটাতে কৃষকরা এখন হাত দিয়ে কৃত্রিমভাবে পরাগায়নের কাজ সম্পন্ন করছেন।কৃষকদের মতে পেঁয়াজ বীজ চাষ সাধারণ পেঁয়াজ চাষের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন এবং বেশ শ্রমনির্ভর।

 

এর জন্য জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে সেচ প্রদান, আগাছা দমন এবং নিয়মিত রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করতে হয়। সঠিক উপায়ে সময়মতো পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে এটি কৃষকের জন্য সাধারণ ফসলের চেয়ে অনেক বেশি মুনাফা এনে দিতে পারে।হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম এই উদ্যোগ সম্পর্কে ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন। 

তিনি জানান যে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এই চাষের প্রসারে কৃষকদের উন্নত মানের বীজ, সার এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে হিলিতে এই বাণিজ্যিক উৎপাদন সফল হলে পুরো এলাকায় পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। এতে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি যেমন গতিশীল হবে, তেমনি দেশের বীজের চাহিদাও অনেকাংশে পূরণ হবে।