বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ঘোড়াঘাটে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন এলাকার চাষীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১১:১১ পিএম

ঘোড়াঘাটে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন এলাকার চাষীরা

দিনাজপুরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপজেলা ঘোড়াঘাটে প্রতিবছরই ভুট্টা চাষে কৃষকদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। বহুমুখী ব্যবহারের কারণে এই ফসলটি এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সাধারণত ভুট্টা সংগ্রহের পর এর মোচা ও কাণ্ড জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে। পাশাপাশি ভুট্টার পাতা গবাদি পশুর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

বর্তমানে ভুট্টার কাণ্ড থেকে সুমিষ্ট গুড় উৎপাদনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘোড়াঘাটের একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়নে মোট ১ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। 

তবে মাঠ পর্যায়ে সেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, ইরি-বোরো আবাদের তুলনায় ভুট্টা চাষে সেচ ও সার অনেক কম লাগে। 

ফলনও বেশ ভালো হয়। মূলত এই কারণেই প্রতি বছর নতুন নতুন কৃষক ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘোড়াঘাট উপজেলায় উঁচু জমির পরিমাণ বেশি হওয়ায় এখানে ভুট্টা চাষের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। অতীতে ইরি-বোরো আবাদে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা ঘরে তুলতে না পারায় এলাকার কৃষকরা বিকল্প হিসেবে এখন ভুট্টাকে বেছে নিচ্ছেন। বর্তমানে দেশের পোল্ট্রি ফিড, বেকারি এবং শিশুখাদ্যসহ বিভিন্ন শিল্পে ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে এই ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ের চাষিরা প্রায়ই ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হাতেগোনা কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন তারা। মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ভুট্টা কিনে তা গুদামজাত করছে এবং পরে অধিক মুনাফায় বিক্রি করছে। বাজার ব্যবস্থার এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সাধারণ চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই সংকট নিরসনে এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এলাকার ভুট্টা চাষিরা সরকারিভাবে ভুট্টার দর নির্ধারণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।