জুন ৭, ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে কমছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে সেজ ব্যবস্থা, সার ও ডিজেলের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন দেশের প্রান্তিক চাষিরা।
একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চালিকাশক্তি এই খাতকে রক্ষা করতে আসন্ন বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ ও পর্যাপ্ত ভর্তুকি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।প্রান্তিক কৃষকেরা এখন উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে কৃষির অবদান প্রায় ১১ শতাংশ এবং দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪০ শতাংশের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অথচ বিগত কয়েক বছরের বাজেট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট বাজেটের ১০ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দ।
দুই হাজার ২৫-২৬ অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল মাত্র ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। দুই হাজার ২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৭ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা এবং দুই হাজার২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৫৬ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি।বরাদ্দের পাশাপাশি বছরের ব্যবধানে কৃষি খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। দুই হাজার ২২-২৩ অর্থবছরে যেখানে কৃষি খাতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল ২৬ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা, সেখানে সবশেষ দুই হাজার ২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১৭Style,২৪১ কোটি টাকা।
এই ধরনের ধারাবাহিক বরাদ্দ ও ভর্তুকি কমে যাওয়ার কারণে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ এবং কীটনাশকের অতিরিক্ত মূল্যের চাপ সরাসরি পড়ছে সাধারণ কৃষকের ওপর। ৪০ কেজি ধানের উৎপাদন খরচ এখন প্রায় এক হাজার ২০০ টাকায় গিয়ে ঠেকছে বলে মাঠপর্যায়ের কৃষকেরা জানিয়েছেন।স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের দুর্যোগ মোকাবেলা করতে বাজেটে বিশেষ তহবিল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।
বিদেশি যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে হারভেস্টার ও রিপার তৈরির জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। রাসায়নিক সারের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন কাঠামোকে শক্তিশালী করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কৃষি খাতকে কেবল সাধারণ ব্যয় হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদী লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করলেই দেশের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন