জুন ১২, ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পে স্যাসো মুরগি পালন এখন খামারিদের জন্য এক অত্যন্ত লাভজনক ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খামারিদের মতে সোনালী বা কক মুরগির তুলনায় এই জাতটি দ্রুত বাড়ে এবং এর খাদ্য রূপান্তর হার অনেক ভালো। দেশের মাংসের বাজারে এই মুরগির চটজলদি ভালো দাম ও পর্যাপ্ত চাহিদা থাকার কারণে খামারিরা ব্যাপক উৎসাহিত হচ্ছেন।
অল্প সময়ে অধিক মাংস উৎপাদনের জন্য এই জাতটিকে এখন খামারি বান্ধব মুরগি বলা হচ্ছে।মাত্র ৪৫ দিনের একটি ব্যাচেই একেকটি মুরগির ওজন প্রায় ১ কিলোগ্রাম ২০০ গ্রাম বা ১২০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। এই সময়ের মধ্যে একটি মুরগি সর্বোচ্চ মাত্র ২ কিলোগ্রাম খাবার গ্রহণ করে যা অন্যান্য জাতের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী। যেখানে সনাতন সোনালী মুরগির ওজন আসতে ৭০ থেকে ৮০ দিন সময় লেগে যায় সেখানে একই সময়ে স্যাসো মুরগির প্রায় দুটি ব্যাচ সম্পন্ন করা সম্ভব।
এই মুরগির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি এবং তীব্র গরমেও এদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে। বাণিজ্যিক খামারে ৫ হাজার মুরগির শেডেও মৃত্যুহার শতকরা এক বা দুইটির নিচে থাকে যা খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক লোকসান থেকে রক্ষা করে। বাচ্চার ভালো গুণগত মানের কারণে ব্রাউন ও লালসহ বিভিন্ন রঙের এই সুস্থ সবল মুরগিগুলো শেডের ভেতর অত্যন্ত চটপটে থাকে।
বর্তমানে বাজারে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কিলোগ্রাম স্যাসো মুরগি প্রায় ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং খুচরা বাজারে এর দাম ২৮০ থেকে ২৯0 টাকা পর্যন্ত। কাজি ফার্মসের উন্নত প্রযুক্তিতে উৎপাদিত একদিনের সুস্থ চারা সংগ্রহ করে সঠিক বুডিং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই চাষ করা হচ্ছে। দেশের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ও গ্রামীণ বেকারত্ব দূর করতে এই মুরগি পালন পোল্ট্রি শিল্পে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন