জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
দিনাজপুরে ধান রোপণ যন্ত্র বা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার সেবা সম্প্রসারণ, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র তথা সিমিত-বাংলাদেশের আয়োজনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারের কার্যালয়ে এই অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা সম্পন্ন হয়।কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন সিমিত-বাংলাদেশের হাব ম্যানেজার কৃষিবিদ ড. খন্দকার শফিকুল ইসলাম।
দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং নীলফামারী জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মোট চল্লিশ জন অংশগ্রহণকারী এই কর্মশালায় অংশ নেন। এদের মধ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সেবা প্রদানকারী বা এমএসপি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ মো. আফজল হোসেন বলেন, ধান রোপণ যন্ত্রের কার্যকর ব্যবহার এবং দক্ষ সেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে কৃষকের দোরগোড়ায় যান্ত্রিকীকরণ সেবা পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই যন্ত্রের সেবা প্রদানকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সম্প্রসারণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সিমিত-বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ ও কারিগরি সেশন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম। তিনি এমএসপিদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং সেবার মান উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ করার সুপারিশ উপস্থাপন করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএডিসির ভিত্তি পাটবীজ খামারের যুগ্ম পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. সুলতানুল আলম বলেন, ধান রোপণ যন্ত্রের টেকসই সম্প্রসারণে মাঠপর্যায়ের সেবা প্রদানকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তিনি বিএডিসির ফার্মে এই যন্ত্র ব্যবহারের নিজস্ব অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সেবা প্রদানকারী বা এমএসপিরা মাঠপর্যায়ে ধান রোপণ যন্ত্র পরিচালনা, ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ এবং কৃষকদের চাহিদা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। পরিশেষে, কর্মশালার সঞ্চালক কৃষিবিদ এলানুজ্জামান কোরৈশী জানান যে এই কর্মশালা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সিমিত-বাংলাদেশ কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নে দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন