আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
রেডিমেড ফিডের বদলে তাজা সবজি খাইয়ে দেশি মুরগি পালনের নতুন প্রাকৃতিক পদ্ধতি খামারিদের জন্য ব্যাপক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। পোলট্রি ব্যবসায় সবচেয়ে বড় খরচের জায়গা হলো কোম্পানির কেনা ফিড, যা মোট খরচের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ দখল করে নেয়। কিন্তু প্রাকৃতিক বা জিরো ফিড পদ্ধতিতে এই খরচ অর্ধেকেরও নিচে নামিয়ে এনে লাভজনক খামার গড়ে তোলা সম্ভব।
নিজের বিশাল জমি না থাকলে ভাড়া নেওয়া জায়গাতেও শুধু ইচ্ছাশক্তি দিয়ে খামার শুরু করা যায়। নতুন খামারিদের জন্য ডিমের বদলে মাংসের উদ্দেশ্যে মুরগি পালন করা অর্থনৈতিকভাবে বেশি নিরাপদ। ডিমের জন্য পালনে সময় অনেক বেশি লাগে, ফিডের খরচ বাড়ে এবং রোগবালাইয়ের ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে মাংসের দেশি মুরগি মাত্র তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই বিক্রির উপযুক্ত হয়ে যায়।খামারের নকশা তৈরির সময় মোট জায়গার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ জমিতে মূল শেড বানাতে হয় এবং বাকি ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জায়গা মুরগির অবাধে চড়ে বেড়ানোর জন্য ফাঁকা রাখতে হয়।
শেডের চওড়া কোনোভাবেই ২৫ থেকে ৩০ ফুটের বেশি হওয়া উচিত নয়। শেড বেশি চওড়া হলে ভেতরে ক্ষতিকর গ্যাস জমে এবং আলো-বাতাস চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হয়। কম খরচে বাঁশ ও টিন দিয়ে শেড তৈরি করা যায়, যার মাঝখানের উচ্চতা ১৪ ফুট এবং দুই পাশে ১২ ফুট রাখা আদর্শ। গরমের সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিনের নিচে থার্মোকল এবং ভেতরে ফগার সিস্টেম ব্যবহার করা যেতে পারে। শেডের মেঝে কাঁচা মাটির হলেও সমস্যা নেই, তবে মুরগির স্বাভাবিক আচরণের জন্য ভেতরে বাঁশের মাচা তৈরি করে দেওয়া ভালো।
খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে প্রথম দিন থেকেই সবজি দেওয়া মারাত্মক বোকামি। প্রথম ১৫ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত বাচ্চাদের প্রাথমিক বৃদ্ধির জন্য বাজারের স্টার্টার ফিড দিতে হয়। আসল পদ্ধতি শুরু হয় এক মাস বয়স পার হওয়ার পর। তখন রেডিমেড খাবার কমিয়ে তাজা সবজি, বাতিল টমেটো বা বাঁধাকপি দেওয়া শুরু করতে হয়। দেখা গেছে, দেশি মুরগি দামি ফিডের তুলনায় তাজা সবজি খেতেই বেশি পাগল থাকে। এতে মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন বাড়ে, তেমনি ফিড কেনার খরচ বিপুল অংশে বেঁচে যায়।
দেশি মুরগি স্বভাবগতভাবেই খোলা পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে। তবে খোলা জায়গায় পালনের ক্ষেত্রে শেয়াল, বেজি বা বাজপাখির আক্রমণ থেকে বাঁচাতে শেডের দরজার সাথে যুক্ত করে একটি নিরাপদ ঘেরাও বা টানেল তৈরি করা জরুরি। সাধারণ বাঁশ বা লোহার পাইপের কাঠামো তৈরি করে চারপাশ জিআই জালি এবং ওপরের দিক সস্তা নাইলনের জালি দিয়ে পুরোপুরি ঢেকে দিতে হয়।
এর ফলে মুরগি যখন খুশি বাইরে আসতে ও ভেতরে ঢুকতে পারে। বাইরে ঘুরে বেড়ানোর ফলে মুরগি সরাসরি সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি পায় এবং কচি ঘাস ও পোকামাকড় খেয়ে স্ট্রেসমুক্ত থাকে। সারাদিন বাইরে থাকায় মুরগি মলত্যাগও বাইরে বেশি করে, যার ফলে শেডের ভেতর ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি হয় না। দেড় থেকে দুই মাস পর পর একবার শেড পরিষ্কার করলেই অনায়াসে কাজ চলে যায়। সুরক্ষিত টানেল থাকায় বন্যপ্রাণীর ভয় থাকে না এবং খামার সারাদিন পাহারা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
প্রাকৃতিক খাবার দেওয়ায় একটি মুরগি বড় করতে সর্বোচ্চ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা খরচ হয়। বাজারে একটি দেশি মুরগি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় অনায়াসেই বিক্রি হয়। অর্থাৎ সবকিছু ঠিক থাকলে প্রতিটি মুরগিতে প্রায় ১০০ টাকার মতো নিট লাভ থাকে। পাইকারি বাজারের বদলে সরাসরি ক্রেতার কাছে খুচরা বিক্রি করতে পারলে এই লাভের পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন