মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬,

অন্যের অধীনে কাজ ছেড়ে পোলট্রি খামার দিয়ে সফল হলেন এক উদ্যোক্তা

কৃষি ডেস্ক

আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

অন্যের অধীনে কাজ ছেড়ে পোলট্রি খামার দিয়ে সফল হলেন এক উদ্যোক্তা

অন্যের অধীনে চাকরি করার পরাধীনতা ও মানসিক চাপ মেনে নিতে না পেরে গ্রামে ফিরে গিয়ে ব্রয়লার মুরগির খামার গড়ে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন এক অদম্য তরুণ উদ্যোক্তা। চট্টগ্রামে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় নিয়মকানুনের কড়াকড়ি ও অন্যের ইচ্ছায় চলতে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি তার কাছে দাসত্বের মতো মনে হতো। 

চাকরি ছাড়ার পর নিজের জমানো অর্থে একটি ইনকিউবেটর মেশিন কিনে বাড়ি পাঠিয়ে দেশি মুরগির বাচ্চা ফোটানোর মধ্য দিয়ে তিনি তার স্বপ্নের পথে প্রথম পদক্ষেপ নেন। তার মূল লক্ষ্য ছিল শুধু নিজে স্বাবলম্বী হওয়া নয়, বরং গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য একটি সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।বর্তমানে তার খামারে প্রতিদিন নগদ টাকার লেনদেন হচ্ছে এবং ক্রেতারা নিয়মিত মুরগির বাচ্চা কিনতে ভিড় করছেন।

উদ্যোক্তা জানান, ব্যবসা শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে তার কাছে পর্যাপ্ত মূলধন না থাকায় তিনি আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় তাকে সাহায্য করার বদলে অনেকেই খামার গড়ার ধারণা নিয়ে চরম উপহাস করেছিলেন এবং বিনিয়োগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। গ্রামের মানুষের কাছে সে সময় মেশিনে হাজার হাজার ডিম ফোটানোর ধারণাটি পুরোপুরি অবিশ্বাস্য ও নতুন ছিল। এমনকি মাংসের জন্য দেশি ও সোনালী মুরগি পালন করে ব্যাপারীদের ওপর নির্ভর করার কারণে তাকে কয়েক দফায় লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়।

বাজারের ব্যাপারীদের একচেটিয়া আধিপত্য এবং ক্রমাগত লোকসানের পর তিনি স্বাধীনভাবে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের নিয়ন্ত্রণে ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি ফার্মের মুরগি পালন শুরু করেন এবং নির্দিষ্ট একটি আয়ের নিশ্চয়তা পাওয়ার পর প্যারেন্ট স্টক বা নিজস্ব প্রজনন খামার তৈরি করেন। 

উপহাসকারী পরিচিতরা এখন তার সফলতা দেখে তার কাছেই আর্থিক সহায়তা চাইতে আসেন বলে তিনি আক্ষেপ করে জানান। নিজের একাগ্রতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে সঠিক পরিকল্পনা থাকলে কৃষি উদ্যোগেও অভাবনীয় সম্মান ও আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করা সম্ভব।