বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রবাসে ব্যর্থতার পর হাঁস পালনে ঘুরে দাঁড়ালেন ফারুক

কৃষি ডেস্ক

আগস্ট ৩০, ২০২৬, ১১:২২ এএম

প্রবাসে ব্যর্থতার পর হাঁস পালনে ঘুরে দাঁড়ালেন ফারুক

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার শুকুরকান্দি গ্রামের ফারুক হোসেন এখন একজন সফল খামারি। সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে মাত্র বিশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে হাঁস পালন শুরু করেন তিনি। এক বছরের ব্যবধানে সেই খামার থেকে সব খরচ বাদ দিয়ে তাঁর আয় হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টাকা।লেখাপড়া শেষ করে কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পেয়ে ফারুক পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। 

কিন্তু সেখানে স্বপ্ন পূরণের বদলে হতাশা বাড়ে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হন তিনি। দেশে ফিরে নতুন কিছু করার প্রত্যয়ে প্রথমে গরু ও মুরগির খামার গড়ে তুললেও সেখানে লোকসানের মুখে পড়েন। একের পর এক ব্যর্থতার পরও হাল ছাড়েননি এই গ্রাম্য পশু চিকিৎসক।

আমাদের দেশের সাধারণ ধারণা হলো হাঁস পালনে লোকসান হবেই। কিন্তু ফারুক শুকনো জায়গায় আধুনিক পদ্ধতিতে হাঁস পালন করে এই ধারণা সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছেন। তাঁর খামারে এখন পিকেন স্টার তেরো জাতের হাঁস রয়েছে এবং বর্তমানে খামারের সত্তর থেকে আশি শতাংশ হাঁস নিয়মিত ডিম দিচ্ছে। মাংস ও ডিমের জন্য এই জাতের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে স্থানীয় বাজারে, কারণ এই জাতের হাঁসের ডিম তুলনামূলক বড় এবং মাংস অনেক সুস্বাদু হয়।

ফারুক জানালেন, তাঁর উৎপাদিত ডিম ও বাচ্চা স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি এখন অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে। বামন্দী বাসস্ট্যান্ডে তাঁর একটি পশু চিকিৎসার দোকান রয়েছে, যেখান থেকেও দূরদূরান্তের ক্রেতারা হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেকার যুবকরা ফারুকের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নতুন খামার করার পরিকল্পনা করছেন। নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমে ফারুক প্রমাণ করেছেন, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে চরম হতাশা থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে দেশেই লাভজনক কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব।