সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১০:১৯ এএম
নরসিংদীতে রোগবালাইয়ের কারণে দেশি জাতের কলার আবাদে লোকসান এড়াতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ‘বাড়ি-এক’ জাতের কলা চাষে ঝুঁকেছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে উন্নত জাতের এই কলার আবাদ করে ব্যাপক ফলন পাচ্ছেন তারা। জেলার উর্বর মাটি কলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন করে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রতিটি ছড়ি অন্তত এক হাজার টাকায় বিক্রির আশা করছেন আবাদকারীরা। অতীতে স্থানীয় শবরী কলার বাগানে মড়ক দেখা দেওয়ায় আর্থিকভাবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতেন চাষিরা। লোকসান এড়াতে কৃষি কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে গাজীপুর থেকে উন্নত জাতের পাঁচ শতাধিক চারা সংগ্রহ করে নিজেদের জমিতে রোপণ করেন তারা। দেড় খানি জমিতে চারা রোপণ ও পরিচর্যায় প্রায় নব্বই হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে বাগানের অর্ধেকের বেশি গাছে ফলন এসেছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ফলন বাজারে তোলার উপযোগী হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে একটি বাগান থেকেই চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা বিক্রির প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা। এই আয় দিয়ে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর পাশাপাশি দুগ্ধখামার করার মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছেন তারা। দুই দশকের বেশি সময় আগে প্রলয়ংকরী বন্যা ও বেড়িবাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যাওয়ার দুঃসহ স্মৃতি ভুলে এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন এই অঞ্চলের চাষিরা।
নরসিংদীর সাগরকলাসহ অন্যান্য জাতের কলার দেশজুড়ে ব্যাপক চাহিদা থাকায় পাইকারি ব্যাপারীরা সরাসরি জমি থেকেই ফসল কিনে নেন। প্রথম ফলন উঠলে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের নিয়ে উদ্বোধনী উৎসব করার অপেক্ষায় রয়েছেন সফল কৃষকরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন