সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী ময়মনসিংহের ত্রিশাল, ভালুকা ও গফরগাঁও অঞ্চলে মাছ চাষের পাশাপাশি পোল্ট্রি শিল্প ব্যাপকভাবে গড়ে উঠেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সনাতন পদ্ধতিতে হাঁস-মুরগি পালনের কারণে প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই লোকসানের মুখে পড়ছেন। এই সংকট কাটাতে বর্তমানে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব খামার ব্যবস্থাপনার দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।
প্রযুক্তির ব্যবহারে খামারের শ্রমিক ব্যয় ও বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসছে। সনাতন পদ্ধতির খামারগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়, যার ফলে বৈদ্যুতিক মোটরের ব্যবহার বাড়ে। গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরমের সময় লোডশেডিংয়ের কারণে হিটস্ট্রোকে মুরগির মৃত্যুর হার বেড়ে যায়। একই সঙ্গে এসব খামারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিবেশে দুর্গন্ধ ছড়ায়। ফলে ডিম উৎপাদনের খরচ গড়ে দশ টাকার বেশি দাঁড়িয়ে যাওয়ায় খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় খামারি কাজী দিদারুল ইসলাম আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তাঁর খামার পরিচালনা করে সফলতার মুখ দেখেছেন। তাঁর মতে, আধুনিকায়নের ফলে একটি খামার থেকে প্রতি মাসে কেবল শ্রমিক খরচ বাবদ পনেরো থেকে বিশ হাজার টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হচ্ছে। এর মাধ্যমে সার্বিক উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে ডিম সরবরাহ করা সহজ হচ্ছে।
খামারিরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে সরকারি সহায়তা প্রত্যাশা করছেন। পোল্ট্রি খাদ্যের দাম কমানো গেলে দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণে এই শিল্প আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন