মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,

রোপা আমনের বাম্পার ফলনে,কৃষকের মুখে হাসি

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

রোপা আমনের বাম্পার ফলনে,কৃষকের মুখে হাসি

অনুকূল আবহাওয়া এবং কার্যকর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাবে খুলনা অঞ্চলের চার জেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধান আবাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। নিচু এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হওয়া এবং পরিমিত সুষম বৃষ্টিপাতের সুবাদে কৃষকরা এবার ব্যাপক পরিসরে আমনের চাষাবাদ সম্পন্ন করেছেন। মাঠে ধানের আশাতীত বৃদ্ধি কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল—এই চার জেলার চাষিরা ফলন নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। স্থানীয় খোলা বাজারে প্রতি মণ অর্থাৎ ৪০ কেজি মোটা আমন ধান এক হাজার ৩৫০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের চার জেলায় মোট দুই লাখ ৮৯ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের আনুষ্ঠানিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এর বিপরীতে চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে দুই লাখ ৯০ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫১ হেক্টর বেশি এবং শতকরা হিসাবে ১০০ দশমিক ১ শতাংশ অর্জন। চলতি বছর এই কৃষি অঞ্চল থেকে মোট আট লাখ ৫৬ হাজার ৯৭৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ধানের হিসাবে যা দাঁড়ায় ১২ লাখ ৮৫ হাজার ৪৬১ মেট্রিক টন। আমন উৎপাদন বৃদ্ধিকে গতিশীল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে খুলনা অঞ্চলের ৭৫ হাজার ৪০০ জন কৃষককে সহায়তা হিসেবে ইতোমধ্যে ছয় কোটি টাকারও বেশি কৃষি প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে।

জেলাওয়ারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, খুলনা জেলায় ৮৮ হাজার ৩৫১ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বাস্তবে ৮৭ হাজার ৪৬৯ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। এই জেলা থেকে চার লাখ আট হাজার ৩০৮ মেট্রিক টন ধান এবং দুই লাখ ৭২ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন চাল পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। বাগেরহাটে ৬৮ হাজার ৮৯৩ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে ৬৮ হাজার ৭০৬ হেক্টরে। সেখানে দুই লাখ ৭১ হাজার ৬৮৮ মেট্রিক টন ধান ও এক লাখ ৮১ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। সাতক্ষীরায় আবাদের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।

জেলায় ৮৯ হাজার ১৫০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৯০ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। এখান থেকে তিন লাখ ৯৮ হাজার ৭৮০ মেট্রিক টন ধান এবং দুই লাখ ৬৫ হাজার ৮৫৩ মেট্রিক টন চাল ঘরে উঠবে বলে হিসাব করা হয়েছে। নড়াইল জেলায় ৪৩ হাজার ৪৬৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাষ হয়েছে ৪৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টরে। জেলাটিতে দুই লাখ ছয় হাজার ৬৮৬ মেট্রিক টন ধান ও এক লাখ ৩৭ হাজার ৭৯১ মেট্রিক টন চাল মিলবে বলে কৃষি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

মাঠের চিত্র তুলে ধরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে ফসলের দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে সবুজ ও সোনালি আমন ক্ষেতের নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি খাল পুনঃখনন উদ্যোগের ফলে উপকূলের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন হয়েছে। একই সাথে অনুকূল আবহাওয়া ও সুষম বৃষ্টিপাত যুক্ত হওয়ায় ফলন আশাতীত হয়েছে। অনুকূল পরিবেশ এবং সরকারি নীতিগত সহায়তার কারণে চলতি মৌসুমে বাজারে উৎপাদিত ধানের ন্যায্য ও ভালো দাম নিশ্চিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ জানান।