অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০২:০১ পিএম
শীতকালীন সবজি টমেটোকে তীব্র গরমের মৌসুমে আধুনিক প্রযুক্তিতে আবাদ করে আশাতীত সাফল্য ও আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গ্রীষ্মকালে বাজারে বিষমুক্ত ও টাটকা টমেটোর বিপুল চাহিদা থাকায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি জাতের গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার ফসল বিক্রির আশা করছেন চাষি। অসময়ে বাজারে দেশীয় টাটকা টমেটোর সরবরাহ না থাকায় এবং আমদানিকৃত রাসায়নিকযুক্ত পণ্যের ভিড়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই টমেটো ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ভরা মৌসুমে প্রতি কেজি টমেটো যেখানে ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে বর্তমানে পাইকারি ও খোলা বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা দরে। শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রাফটিং করা উন্নত চারা সংগ্রহ করে এক বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই টমেটোর আবাদ শুরু করা হয়। জমিতে প্রাথমিকভাবে তিন হাজার ৪০০টি চারা রোপণ করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় কৃষি কার্যালয় থেকে সময়মতো প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ না পাওয়া এবং রোপণের আগে জমির মাটি যথাযথভাবে শোধন না করার কারণে বিভিন্ন মাটিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু গাছ মারা যায়। বর্তমানে ক্ষেতে প্রায় দুই হাজার ৫০০টি সুস্থ ও ফলন্ত গাছ টিকে রয়েছে।
কৃষক জানান, চাষাবাদের শুরুতে তিনি জমিতে মাচা তৈরি করে পলিথিনের শেড বা ছাউনি ব্যবহার করেছিলেন। গাছ বড় হয়ে ফুল আসার পর আবহাওয়ার তাপমাত্রা মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরাগায়ন ও ফুল ঝরে পড়া রোধে তিনি ওপরের পলিথিনের ছাউনি সরিয়ে দেন। রোপণের মাত্র ২৮ দিনের মাথায় গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে ফল ধরতে দেখা যায়। বর্তমানে প্রতিটি গাছে গড়ে এক থেকে দুই কেজি করে টমেটো ধরেছে।
এক বিঘা জমিতে এই ব্যতিক্রমী আবাদে কৃষকের মোট মূলধনি বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ক্ষেত থেকে দুই দফায় প্রায় দুই মণ টমেটো সংগ্রহ করে পাইকারি বাজারে ভালো দামে বিক্রি করা হয়েছে। সাধারণ শীতকালে যেখানে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে কৃষকদের প্রায়ই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়, সেখানে অফসিজন বা অসময়ের এই চাষে ভালো দাম পাওয়ায় বিনিয়োগের পুঁজি তুলে বড় অঙ্কের মুনাফা অর্জনের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
জমিতে ক্ষতিকর কোনো কীটনাশক প্রয়োগ না করে জৈব সার, পরিমিত রাসায়নিক সার এবং নিয়মিত ছত্রাকনাশক ও জৈব বালাইনাশকের সমন্বয়ে ফসলের নিবিড় পরিচর্যা করা হচ্ছে। বর্ষার শেষ পর্যায়ে এখন সেচ নিশ্চিত করা হচ্ছে। শীতের প্রধান সবজিকে গ্রীষ্মকালে রূপান্তর করার এই বাড়তি পরিচর্যা ও শ্রমের বিনিময়ে কয়েক গুণ বেশি আর্থিক লাভ পাওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চাষি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন