রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,
কৃষি উদ্যোক্তার সাফল্য

লাল তেঁতুল চাষ করে বছরে লাখ টাকা আয়ের নতুন পথ দেখালেন তরুণ উদ্যোক্তা

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

লাল তেঁতুল চাষ করে বছরে লাখ টাকা আয়ের নতুন পথ দেখালেন তরুণ উদ্যোক্তা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা মানিকপুর গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে থাইল্যান্ডের বারোমাসি লাল তেঁতুল চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ। সাধারণ দেশি তেঁতুলের চেয়ে ভিন্ন স্বাদের এই তেঁতুল অতিরিক্ত টক নয়, বরং হালকা টক-মিষ্টি স্বাদের। পাকা অবস্থায় খোসা ছাড়িয়ে হাতে নিলে ড্রাগন ফলের মতো গাঢ় লাল রং ছড়িয়ে পড়ে। দেশে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে এই ব্যতিক্রমী ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন তিনি।

গাছে একই সঙ্গে ফুল, ছোট গুটি এবং পরিপক্ব ফল ঝুলছে।

মূলত ভারতের মহারাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় স্থানীয়দের বসতবাড়িতে এই জাতের ফলন দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি। সেখান থেকে চারা সংগ্রহ করে প্রথমে বাড়ির ছাদে শখের বশে রোপণ করেন। পরবর্তীতে পারিবারিক আপত্তির মুখে ছাদ থেকে গাছগুলো সরিয়ে নিজের জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করা হয়। অনুকূল আবহাওয়ায় গাছগুলোতে অভাবনীয় ফলন আসায় বাণিজ্যিকভাবে বাগান সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন এই উদ্যোক্তা।

বর্তমানে তার বাগানে তিন বছর বয়সী ২০টি ফলন্ত গাছ রয়েছে।

অন্যান্য দেশি গাছে ফলন পেতে পাঁচ থেকে ছয় বছর অপেক্ষা করতে হলেও এই জাতের কলমের চারা রোপণের মাত্র এক বছরের মধ্যেই ফলন দিতে শুরু করে। তিন বছর বয়সী একটি গাছ থেকেই মৌসুমে প্রায় ২০ কেজি তেঁতুল সংগ্রহ করা সম্ভব। প্রতিটি তেঁতুলের ওজন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম বা তারও বেশি হয়ে থাকে। গাছগুলো দেশি জাতের মতো বিশাল আকৃতির হয় না, বরং কিছুটা খাটো ও ঝোপালো প্রকৃতির হওয়ায় ছাদবাগান বা ছোট জমিতেও সহজে চাষযোগ্য।

কৃষি ব্যবস্থাপনার দিক থেকে এই তেঁতুল গাছে কোনো বাড়তি রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন পড়ে না।

বাণিজ্যিক বাগান তৈরির ক্ষেত্রে এক বিঘা জমিতে ১৪ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে সর্বোচ্চ ৮০টি চারা রোপণ করা যায়। গত বছর এই বাগান থেকে সংগৃহীত তেঁতুল প্রতি কেজি ৭০০ টাকা দরে অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। আমদানি করা বিদেশি লাল তেঁতুল দেশের বাজারে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও স্থানীয়ভাবে চাষ করা এই ফল পাইকারিতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করলেও কৃষকদের জন্য এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি কৃষি খাত হতে পারে।