শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,
কৃষিতে সাফল্য

পেঁপে চাষে তাক লাগালেন নওগাঁর আমজাদ, এক মৌসুমেই ২৩ লাখ আয়ের স্বপ্ন

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম

পেঁপে চাষে তাক লাগালেন নওগাঁর আমজাদ, এক মৌসুমেই ২৩ লাখ আয়ের স্বপ্ন

পেঁপে চাষ করে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা আমজাদ হোসেন। উপজেলার চুয়ারপুর গ্রামে নিজের সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁপে আবাদ করেছেন তিনি। সব ধরনের উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে চলতি এক মৌসুমেই প্রায় ২৩ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জনের জোর প্রত্যাশা করছেন এই উদ্যোক্তা। তার এই অভাবনীয় সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

আমজাদ হোসেন জানান, প্রায় ১০ মাস আগে তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে এক হাজার ২৫০টি পেঁপের চারা রোপণ করেন। জমি তৈরি, মানসম্মত চারা সংগ্রহ, বাঁশের শক্ত খুঁটি তৈরি, জৈব সার ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ এবং মাকরনাশক ব্যবহার বাবদ তার সর্বমোট ব্যয় হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। পরিচর্যার পর সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রতিটি গাছে ভরপুর পেঁপে আসতে শুরু করে। বাগানের কিছু পুরুষ গাছ ও প্রতিকূলতায় নষ্ট হওয়া ৫০টি গাছ বাদ দিলে বর্তমানে প্রায় এক হাজার ২০০টি গাছে ফলন এসেছে।

সবুজ পাতার নিচে সারি সারি গাছে ঝুলে থাকা বড় আকারের পেঁপে যে কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

গাছের ফলন ও অর্থনৈতিক হিসাব তুলে ধরে আমজাদ হোসেন বলেন, গড়ে প্রতিটি গাছ থেকে অন্তত দুই মণ করে পাকা পেঁপে মিলছে। সেই হিসেবে এক হাজার ২০০ গাছ থেকে চলতি মৌসুমে দুই হাজার ৪০০ মণ পেঁপে আহরণের লক্ষ্য রয়েছে। প্রতি মণ পেঁপে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সর্বনিম্ন এক হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। এতে বাগানে উৎপাদিত পেঁপের মোট বিক্রি মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ফলে মোট বিনিয়োগের পাঁচ লাখ টাকা বাদ দিলেও তার নিট মুনাফা থাকবে ২৩ লাখ টাকার ওপরে।

উদ্যোক্তার বাগান থেকেই পাইকাররা সরাসরি পেঁপে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সুস্বাদু ও বিষমুক্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারাও পারিবারিক চাহিদায় প্রতিদিন বাগান থেকে পেঁপে সংগ্রহ করছেন।

বাগানে পেঁপে কিনতে আসা স্থানীয় ক্রেতা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম এবং অরুপ কুমার জানান, একই গাছে এত বিপুল পরিমাণ পেঁপে ধরার দৃশ্য সচরাচর চোখে পড়ে না। বাগানের প্রতিটি ফল বেশ নাদুসনুদুস, মিষ্টি ও সুস্বাদু। ফলে প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে অসংখ্য কৌতূহলী মানুষ বাগানটি একনজর দেখতে আসছেন। তাদের অনেকেই এমন একটি লাভজনক বাগান গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়ে আমজাদ হোসেনের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপপরিচালক মোহাম্মদ মনজুর রহমান জানান, সঠিক পরিকল্পনা ও নিবিড় পরিচর্যার কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পেঁপে চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছেন আমজাদ হোসেন। তার এই বাণিজ্যিক উদ্যোগ দেখে এলাকার তরুণ ও কৃষকদের মধ্যে পেঁপে চাষে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে মাঠপর্যায়ে এমন উদ্যোক্তাদের সার্বক্ষণিক কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

মাটির বৈশিষ্ট্য ও পুষ্টিমান প্রসঙ্গে উপপরিচালক আরও উল্লেখ করেন, পেঁপে একটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন ফল ও সবজি, যার দৈনিক চাহিদা বাজারে ব্যাপক। বরেন্দ্র ও সংলগ্ন অঞ্চলের দোআঁশ মাটি পেঁপে আবাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ফলে সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে এলে যে কেউ লাভজনক ফসল হিসেবে পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারেন বলে জানিয়েছে দিনাজপুর টিভি ডট কম।