অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতির সমন্বয় ঘটাতে পারলে লাউ চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি নিয়মিত ও স্থায়ী আয়ের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। সাধারণ মৌসুমি সবজির ক্ষেত্রে ফলন তোলার মাঝে কয়েক দিনের বিরতি দিতে হলেও লাউয়ের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ফলন সংগ্রহ ও বাজারে বিক্রির অনন্য সুযোগ রয়েছে।
অসময়ে বা আগাম চাষের কৌশলই এই সবজিতে অধিক মুনাফা অর্জনের মূল চাবিকাঠি। ভরা মৌসুমে প্রতি পিস লাউ পাইকারি বা খুচরা বাজারে পাঁচ থেকে ১০ টাকায় নেমে এলেও অফ-সিজনে বা আগাম চাষে একই লাউ একেকটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এর পাশাপাশি নিয়মিত লাউ বিক্রির চেয়ে অনেক সময় এর কচি ডগা বিক্রি করে অধিক লাভ পাওয়া যায়। বাজারে মাত্র এক হালি বা চারটি পুষ্ট ডগা ক্ষেত্রবিশেষে একশত টাকায় বিক্রি হয়, যা অনেক সময় একটি পূর্ণাঙ্গ লাউয়ের দামের চেয়েও বেশি।
লাউ গাছের কোনো অংশই চাষির কাছে অপচয় হয় না।
পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সুস্বাদু শাক ও পাতার উপাদেয় ভর্তা তৈরির পাশাপাশি অবশিষ্ট লতাপাতা ও গাছের ডালপালা কেটে গবাদিপশুর পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে সরাসরি ব্যবহার করা যায়। পেঁপে কিংবা অন্য যেকোনো ফলের বাগানেও সাথী ফসল হিসেবে লাউ চাষ করে একই জমি থেকে বাড়তি মুনাফা নিশ্চিত করা সম্ভব।
ফলনের দ্রুততা ও স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক সেচ ব্যবস্থাপনা।
বীজ রোপণের মাত্র ৪৫ থেকে ৪৬ দিনের মাথায় লাউ গাছে দৃশ্যমান ফলন আসতে শুরু করে। আধুনিক মালচিং পেপার ব্যবহারের ফলে গাছের গোড়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত আগাছা জন্মাতে পারে না এবং মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ অক্ষুণ্ণ থাকে। লাউ রসালো ফসল হওয়ায় এর ভেতরের অংশে প্রচুর তরল থাকে, তাই গাছের গোড়া সর্বদা ঠান্ডা রাখতে নিয়মিত সেচ প্রয়োগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
পারিবারিক চাহিদা পূরণ এবং উপহার হিসেবে বিতরণের পাশাপাশি স্বল্প খরচে নিয়মিত নগদ অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে লাউ চাষ অত্যন্ত টেকসই এক বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন