সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

বজ্রপাত রোধে দেশি খেজুর চারা গাইবান্ধায় অনাবাদী জমিতে কৃষকের বাজিমাত

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

বজ্রপাত রোধে দেশি খেজুর চারা গাইবান্ধায় অনাবাদী জমিতে কৃষকের বাজিমাত

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি পতিত অনাবাদী জমিকে কাজে লাগিয়ে দেশি খেজুরের চারা উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গাইবান্ধার এক কৃষক।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝড় ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের কৃষক মোস্তফা কামাল অপিল এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের সূচনা করেছেন।

ছেলের আগ্রহ থেকেই এই পথচলা শুরু।

বসতবাড়ির পাশে দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে ও জঞ্জাল হিসেবে পড়ে থাকা মাত্র কয়েক শতাংশ অনাবাদী জমিতে শুরু হয় এই নার্সারি। ছেলের পরামর্শে সামান্য কিছু বীজ ফেলে তিনি যে নার্সারি গড়ে তুলেছিলেন, তা আজ রূপ নিয়েছে একটি লাভজনক কৃষি উদ্যোগে।

বর্তমানে তাঁর বীজতলায় সযত্নে বেড়ে উঠছে প্রায় ৭০০টি দেশি খেজুরের চারা।

কৃষক মোস্তফা কামাল জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্বাভাবিক হারে বজ্রপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও আতঙ্ক তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই সামাজিক উদ্বেগ থেকেই তিনি উঁচু ও দীর্ঘজীবী গাছ হিসেবে পরিচিত তাল ও দেশি খেজুরের চারা উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন।

তাঁর লক্ষ্য ছিল নিজের বসতবাড়ির আশপাশে গাছগুলো রোপণ করা এবং গ্রামীণ পথঘাটে এই বৃক্ষরোপণ ছড়িয়ে দেওয়া।

প্রতিটি চারা সাড়ে তিন থেকে চার ফুট উচ্চতায় পৌঁছাতে বীজ বপন ও পরিচর্যা বাবদ সর্বমোট খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

চাহিদা বাড়ায় আয়ের স্বপ্ন তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে প্রতিটি চারা স্থানীয় বাজারে গড়ে ৫০০ টাকা দরে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই হিসাবে এই ক্ষুদ্র পরিসরের নার্সারি থেকেই প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার বাণিজ্যিক লেনদেনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন এই চাষি।

ধান বা গমের মতো প্রচলিত যেকোনো ফসলের তুলনায় এতে কয়েক গুণ বেশি নিট মুনাফা সম্ভব বলে তিনি জানান।

গাছগুলোর পরিচর্যায় কোনো রোগবালাই দেখা দিলে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেওয়া হয় এবং তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক স্প্রে করা হয়।

স্বল্প ব্যয়ে অধিক মুনাফার সুযোগ তৈরি হওয়ায় আশপাশের বহু চাষি এখন প্রতিদিন এই চারা দেখতে ভিড় করছেন।

স্থানীয় প্রতিবেশী ও কৃষিবিদদের মতে, নওগাঁসহ দেশের পশ্চিমাঞ্চলে যেভাবে তাল ও খেজুরের গাছ থেকে রস ও গুড় উৎপাদন করে গ্রামীণ অর্থনীতি স্বাবলম্বী হয়েছে, গাইবান্ধাতেও পরিকল্পিতভাবে এই চারা রোপণ করলে তা আঞ্চলিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।

সরকারি উদ্যোগে গ্রামীণ রাস্তার দুই ধারে তাল ও খেজুর গাছ রোপণ কর্মসূচিতে অংশীদার হতে পারলে এই ধরনের নার্সারি পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি কৃষক পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুরক্ষা জোগাবে।