বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,
কৃষি উদ্যোক্তা সাফল্য

কবুতর পালনে মাসে ১০ হাজার খরচ করে আয় ৫০ হাজার টাকা

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম

কবুতর পালনে মাসে ১০ হাজার খরচ করে আয় ৫০ হাজার টাকা

কবুতর পালনে মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা বিক্রির ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়েছেন এক খামারি। মাত্র এক হাজার ২০০ টাকা পুঁজিতে তিন জোড়া কবুতর কিনে শুরু করা সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে লাভজনক গৃহপালিত খামারে। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ৮০টি কবুতর রয়েছে।

খামারির হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে কবুতরের খাবার ও রক্ষণাবেক্ষণে নির্দিষ্ট পরিমাণ খরচ হয়। দৈনিক খাবারের পেছনে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা ব্যয় করতে হয়, যা মাসে দাঁড়ায় নয় থেকে ১০ হাজার টাকায়। এর সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ওষুধ বাবদ প্রতি মাসে অতিরিক্ত আরও এক থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় হলেও গত সেপ্টেম্বর মাসে খামার থেকে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো।

শুরুর দিকে সংগৃহীত কবুতরের বাচ্চাগুলো ছয় মাস পরিচর্যার পর ডিম পাড়া শুরু করে।

সে সময় প্রাথমিক উৎপাদিত বাচ্চা সরাসরি বাজারে বিক্রি না করে নিজের খামারে রেখে বংশবৃদ্ধি করা হয়। ধীরে ধীরে সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে খামার বড় রূপ নেওয়ার পর বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু হয়।

বর্ষার এক-দুই মাসের স্বাভাবিক বিশ্রাম ছাড়া এক জোড়া কবুতর থেকে বছরে প্রায় নয় থেকে ১০ জোড়া পর্যন্ত বাচ্চা পাওয়া যায়। কবুতরের বাচ্চা নির্দিষ্ট আকারে পৌঁছানোর আগেই আবার ডিম পাড়ে। বিশেষ করে দেশি জাতের কবুতরের মাংসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। অসুস্থ মানুষের পথ্য হিসেবে চিকিৎসকেরা প্রায়ই কবুতরের মাংসের পরামর্শ দেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে এর নিয়মিত ক্রেতা তৈরি হয়।

বর্তমানে স্থানীয় এলাকায় প্রতি জোড়া দেশি কবুতরের বাচ্চা প্রায় ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এই খামারে দেশি জাতের পাশাপাশি গিরিবাজ, ঘেয়াচুন্নি এবং কিং কবুতরসহ চার জাতের কবুতর লালন-পালন করা হচ্ছে। কবুতরের পাশাপাশি খামারে রয়েছে ১১ জাতের সৌখিন মুরগি এবং বিদেশি জাতের জায়ান্ট কটনিক্স কোয়েল পাখি। সৌখিন মুরগি ও বাচ্চা বিক্রির মাধ্যমেও অতিরিক্ত অর্থ আয় আসে।

স্থানীয় পর্যায়ে খামারটির পরিচিতি তৈরি হওয়ায় বিক্রির জন্য কোনো হাট-বাজারে যেতে হয় না। ক্রেতারা সরাসরি বাড়ি থেকেই কবুতর ও বাচ্চা কিনে নেন। অনেক সময় বাচ্চা বড় হওয়ার আগেই আগাম বায়না চলে আসে।

শীত মৌসুমে ঠাণ্ডাজনিত সংক্রমণ এবং চুন পায়খানার কারণে কিছু কবুতর মারা যাওয়ার ঝুঁকি থাকে বলে জানান খামারি। গত শীত মৌসুমে প্রায় ২০ থেকে ২২টি কবুতর ঠাণ্ডা ও ভাইরাসজনিত অসুস্থতায় মারা যায়। এই ঝুঁকি সামলাতে অসুস্থ কবুতরগুলোকে দ্রুত আলাদা করে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া নিয়মিত ঠাণ্ডা প্রতিরোধক ও কৃমিনাশক ওষুধের কোর্স করানোর মাধ্যমে খামারের পাখিগুলোকে সুস্থ রাখা হয়।