নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ১০:৫১ পিএম
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন যে, সরকার দেশের মালিক নয়, দেশের মালিক হলো জনগণ। তিনি বলেন, জনগণ তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার হেফাজত করার জন্যই নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায় বসায়।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে নাটোর জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সমতল আদিবাসী সম্মেলন চলাকালীন তিনি প্রধান বক্তা হিসেবে এসব কথা বলেন।সুলতানা কামাল তার বক্তব্যে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক ধারণার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, কোনো একটি রাষ্ট্র জনগোষ্ঠীকে তৈরি করে না, বরং একটি জনগোষ্ঠীই রাষ্ট্রকে তার পরিচয় দেয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করে।
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, একসময় বাংলাদেশ ছিল না, ভারত বা পাকিস্তান নামে অন্য রাষ্ট্র ছিল। কিন্তু মানুষ ছিল, মানুষের পরিচয় ছিল। যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় যান, তারা প্রায়শই ভুলে যান যে, জনগোষ্ঠীই রাষ্ট্র তৈরি করে, রাষ্ট্র জনগোষ্ঠীকে নয়।তিনি সংবিধান এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিচয় প্রসঙ্গে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সুলতানা কামাল বলেন, 'ক্ষুদ্র' শব্দটি আপেক্ষিক এবং এটি কোনো মানুষের পরিচয় হতে পারে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা সংবিধান রচনা করেন, তারা কিভাবে সংবিধানে এমন ত্রুটি লেখেন।
তিনি অবিলম্বে এই ত্রুটি সংশোধনের দাবি জানান। তার মতে, যতক্ষণ না পর্যন্ত সংশোধন হচ্ছে, সংবিধানে কোনো ব্যক্তি বা কোনো জনগোষ্ঠীর নামে বৈষম্য থাকা যাবে না। যখনই কোনো জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা হয়, তা অসাংবিধানিক কাজ হয় এবং যারা করেন তারা সংবিধানকে লঙ্ঘন ও অশ্রদ্ধা করেন। তিনি সচেতন নাগরিক হিসেবে এর প্রতিবাদ জানানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি মনে করিয়ে দেন, এই দেশের মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার থাকবে। তিনি একটি সাম্যের দেশ, ন্যায় বিচারের দেশ এবং মানবিক মর্যাদার দেশ তৈরির প্রত্যাশা করেন। সুলতানা কামাল বলেন, কোনো দেশে যদি জনগোষ্ঠী শঙ্কায় বাস করে, তবে সেটা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। যদি কোনো মানুষ মনে করে তার মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষিত হচ্ছে না, তবে সেখানে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটছে।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের প্রধান নির্বাহী জিন্নাত আরা হক এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর নুজহাত জাবিন। এছাড়া মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নীলা হাফিয়া, পিকেএসএস এর নির্বাহী পরিচালক ডেইজি আহমেদ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের নেতা আশিকচন্দ্র বানিয়াজ, আদিবাসী কমিউনিটি সদস্য লাবনী এক্কা ও মাধবী রাণী সহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন