বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ প্রতিবন্ধী নাইছ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৯:৪৭ এএম

অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ প্রতিবন্ধী নাইছ

শারীরিক প্রতিবন্ধিতাকে হার মানিয়ে জীবনের দীর্ঘ ১৮ বছর বাবার কোলে চড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করা অদম্য শিক্ষার্থী নাইছ খাতুন ওরফে হাসি অনার্স চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন। শুক্রবার ইন্টারনেটে তার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলে এই আনন্দের খবর জানা যায়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি ৩ দশমিক ০২ গ্রেড অর্জন করেছেন। এমন কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলে নাইছ নিজে যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনি খুশি তার মা-বাবা ও স্বজনেরা।

বগুড়ার ধুনট উপজেলার বহালগাছা গ্রামের বাসিন্দা দরিদ্র দম্পতি নজরুল ইসলাম ও আকতার জাহানের ঘরে ২০০১ সালে জন্ম নেন নাইছ।

জন্ম থেকেই তার দুটো পা এবং ডান হাতে শক্তি নেই বা তা নিশ্চল। তার সম্বল একমাত্র বাঁ হাত। এই শারীরিক অক্ষমতার কারণে সব সময় তার বাবা নজরুল ইসলামের কোলে চড়েই প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত যাতায়াত করতে হয়েছে।নাইছের লেখাপড়ার এই সংগ্রামী পথ বহু বছর ধরে চলছে। ছয় বছর বয়সে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর পঞ্চম শ্রেণির পাঠ শেষ করেন। এরপর বিশ্বহরিগাছা-বহালগাছা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে মানবিক শাখায় ৩.৫৫ পয়েন্ট পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হন।

২০১৯ সালে বিশ্বহরিগাছা-বহালগাছা বহুমুখী মহাবিদ্যালয় থেকে ২.৭৫ পয়েন্ট পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন। দীর্ঘ ১৮ বছরের এই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তিনি অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হলেন।

নাইছের বাবা নজরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও দূর থেকে তা বোঝার উপায় নেই। শুধু বসা অবস্থায় বাঁ হাতটি দিয়ে কলম ধরে লিখতে পারে সে। তিনি বলেন, জন্ম থেকেই হাসিখুশি থাকার কারণে তারা আদর করে মেয়ের নাম রেখেছেন হাসি। বাবার সামর্থ্য অনুযায়ী অনেক ডাক্তার ও কবিরাজের কাছে নাইছের চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলেও ভাগ্য তাদের সহায় হয়নি।

অদম্য নাইছ খাতুন এই সফলতা নিয়ে বলেন, "শরীরে শক্তি নেই, তাই কী হবে? মনোবল আর এক হাতের শক্তি নিয়েই জীবন শুরু করেছি। আমি কারো মাথায় বোঝা হয়ে থাকতে চাই না।" তিনি জানান, বাবার কোলে চড়ে একসময় রাস্তায় বের হলে মানুষ আড় চোখে তাকিয়ে থাকত। কিন্তু লেখাপড়ার কারণে মানুষ এখন তাকে ভালোবাসে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সমাজের সবার ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকতে চান তিনি এবং প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করে নিজেকে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত করতে চান।