সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফের ভূমিকম্পে কাঁপল সিলেট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

ফের ভূমিকম্পে কাঁপল সিলেট

সিলেট অঞ্চল ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল যা মঙ্গলবার বিকেলের দিকে স্থানীয় জনমনে বেশ আতঙ্কের সৃষ্টি করে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটের দিকে এই কম্পন অনুভূত হয় এবং স্থায়িত্ব কম হলেও এর তীব্রতা মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা ইউএসজিএস-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক শূন্য। 

ভূমিকম্পটি অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিলেট নগরীসহ আশেপাশের এলাকার মানুষজন দ্রুত বাসা-বাড়ি ও অফিস থেকে বেরিয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি তবুও ঘন ঘন এমন কম্পন নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইউএসজিএস তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে যে মঙ্গলবারের এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার গুরুকচি গ্রামের কাছাকাছি এলাকায়। এটি ভূপৃষ্ঠের খুব বেশি গভীরে ছিল না বলেই কম্পনটি তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

সিলেট অঞ্চল ভৌগোলিকভাবেই ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা ডেঞ্জার জোন হিসেবে পরিচিত। ভূতত্ত্ববিদরা দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে বড় ধরণের ভূমিকম্পের আশঙ্কার কথা জানিয়ে আসছেন। মঙ্গলবারের এই ঘটনা সেই শঙ্কাকেই যেন আবারও মনে করিয়ে দিল। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং কোথাও কোনো ফাটল বা ধসের খবর পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এর আগে গত শনিবার অর্থাৎ ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায়ও এই অঞ্চলে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছিল। 

সেদিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ভারতের সিকিম রাজ্যে ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে যার প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্তেও পড়েছিল। সেই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পশ্চিম সিকিমে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে আবারও সিলেটে ভূমিকম্প হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন। নেপাল, চীন ও ভুটানের সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলগুলোতে টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে প্রায়ই এমন কম্পন অনুভূত হয়। ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণে সিলেটের পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।