শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

পাবনায় দাদি-নাতনি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, ঘাতক আটক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

পাবনায় দাদি-নাতনি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, ঘাতক আটক

গ্রেপ্তার ঘাতক শরীফ

পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে শরিফুল ইসলাম শরীফ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ নিজের অপরাধ স্বীকার করে ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। নিহতরা হলেন উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের সুফিয়া খাতুন এবং তার নাতনি জামিলা আক্তার। 

জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং একজন হাফেজা ছিল। এই ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি অজ্ঞাতনামা হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

পুলিশের তদন্ত ও ঘাতকের জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ছিল যৌন হয়রানিতে বাধা দেওয়া এবং সামাজিক অপমানের প্রতিশোধ গ্রহণ। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে শরীফ ওই বাড়িতে বাজার পৌঁছে দিতে গিয়ে কিশোরী জামিলাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। সে সময় জামিলা সাহসিকতার সাথে বাধা দেয় এবং শরীফকে চড় মারে। 

এই ঘটনায় অপমানিত বোধ করে শরীফ মনে মনে ক্ষোভ পুষে রাখে। পরবর্তীতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে সে পুনরায় ওই বাড়িতে গিয়ে দাদি ও নাতনির কাছে ক্ষমা চাওয়ার অভিনয় করে। তবে সুফিয়া খাতুন তাকে ক্ষমা না করে চিৎকার শুরু করলে শরীফ উত্তেজিত হয়ে পাশে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে বৃদ্ধার মাথায় আঘাত করে।সুফিয়া খাতুন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নাতনি জামিলা চিৎকার শুরু করে। 

তখন শরীফ রাজমিস্ত্রিদের কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টার করার সরঞ্জাম কুন্নি দিয়ে কিশোরীর মাথায় ও কপালে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে নিস্তেজ করে ফেলে। এরপর সে নিস্তেজ জামিলাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির পাশের একটি নির্জন সরিষা ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা নিশ্চিত করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা বাড়ির উঠানে দাদির এবং পাশের ক্ষেতে নাতনির বিবস্ত্র মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।পাবনা জেলা ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্থানীয় তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তারা দ্রুত অপরাধীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। 

শরীফ পেশায় একজন ট্রাকচালক এবং সম্পর্কে নিহতদের নিকটাত্মীয় ছিল। ঘটনার পর রাজশাহীর অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পাবনার পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে। একই সাথে গ্রেপ্তারকৃত শরীফকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জামিলার বাবা কাজের প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে থাকায় দাদি ও নাতনি একাই ওই বাড়িতে বসবাস করতেন, যার সুযোগ নিয়েছিল ঘাতক।