মার্চ ৩, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
রাজধানীতে মশার অসহনীয় উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটি এখন থেকে প্রতিদিন তিনবার মশক নিধন ওষুধ প্রয়োগ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সাথে মশা নিধন কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে একটি বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (কিউআরটি) গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন কর্মপরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
সংস্থার বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মশক নিয়ন্ত্রণকে নাগরিক সেবার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি পত্রে মশক নিধনের নতুন সময়সূচি বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী দিনের শুরুতে অর্থাৎ সকালে মশার লার্ভা ধ্বংসে ‘লার্ভিসাইডিং’ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এরপর বিকেল ও সন্ধ্যার নির্ধারিত সময়ের পাশাপাশি এলাকাভেদে মশার ঘনত্ব ও সক্রিয়তা বিবেচনা করে রাতেও ‘ফগিং’ কার্যক্রম চালানো হবে।
এভাবে প্রতিদিন তিন দফায় ওষুধ ছিটানোর মাধ্যমে মশার প্রজনন ও বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও এই কার্যক্রম বিরতিহীনভাবে চলমান থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।মশক নিধন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ডিএনসিসি মাঠ পর্যায়ে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করেছে। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের পাশাপাশি মশক নিধন কর্মীদের উপস্থিতি ও কাজের মান যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে কিউআরটি টিমের মাধ্যমে বিভিন্ন হটস্পটগুলোতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। কিউলেক্স মশার প্রধান প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত নালা, নর্দমা, স্যুয়ারেজ লাইন এবং খাল-বিলের একটি হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই তালিকা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ওষুধ প্রয়োগের কাজ চলবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানিয়েছেন যে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে তারা কোনো ধরনের শিথিলতা দেখাবেন না। তবে মশা নিয়ন্ত্রণে কেবল সিটি কর্পোরেশনের প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয় বলে তিনি মনে করেন। নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ ও বারান্দা পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। কোথাও যাতে পানি জমে থাকতে না পারে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেন যথাযথ হয় তা নিশ্চিত করতে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সমন্বিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকাবাসীকে মশার উপদ্রব থেকে স্বস্তি দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন