রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রামপালে বর-কনেসহ একই পরিবারের ৭ জন নিহত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১২, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম

রামপালে বর-কনেসহ একই পরিবারের ৭ জন নিহত

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা

খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বাগেরহাট অংশের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে বর, কনে, শিশু এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্য রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। 

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও ঘটনাস্থলেই অধিকাংশ যাত্রীর মৃত্যু হয়।অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বর-কনেসহ স্বজনরা মাইক্রোবাসে করে বাড়িতে ফিরছিলেন। 

পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বাসের সঙ্গে তাদের গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকসহ তার পরিবারের মোট সাতজন সদস্য প্রাণ হারান। এ ছাড়া পুত্রবধূর পরিবারের পাঁচজন সদস্য এবং মাইক্রোবাসের চালকসহ আরও একজন এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো মোংলা ও রামপাল এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এই ঘটনায় গভীর শোক ও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী লায়ন্স ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি আহতদের দ্রুত সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

বর্তমানে পুলিশ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। অতিরিক্ত গতি নাকি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই সংঘর্ষ ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশের তৎপরতায় পরে তা স্বাভাবিক হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।