বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

আগুনে ছাই ইলেকট্রিক দোকান: সব হারিয়ে পথে ব্যবসায়ী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৩১, ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

আগুনে ছাই ইলেকট্রিক দোকান: সব হারিয়ে পথে ব্যবসায়ী

সুনামগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল। চোখের সামনেই দাউ দাউ করে জ্বলে শেষ হয়ে গেছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা স্বপ্ন। এক রাতেই নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছেন এবি এম জাকির হোসেন পারভেজ নামের এক ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন একটি মার্কেটের পেছনের দিক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুতই তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা একের পর এক ১৫টি দোকানকে গ্রাস করে নেয়। আগুনের ভয়াবহতা দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত এবি এম জাকির হোসেন পারভেজ শহরের জামতলা এলাকার বাসিন্দা। 

তিনি তিল তিল করে তার এই ব্যবসাটি বড় করেছিলেন। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত তার এই বড় দোকানে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ইলেকট্রিক সামগ্রী মজুদ ছিল। জীবনের সমস্ত সঞ্চয় এই ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। কিন্তু আগুনের তাণ্ডবে তার সেই সম্বল এখন কয়লায় পরিণত হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা রওনক বখত জানান, ব্যবসায়ী পারভেজ এখন আক্ষরিক অর্থেই নিঃস্ব। আগুনে শুধু মালামালই পোড়েনি, তার ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, ব্যবসায়িক কাজের জন্য ব্যাংক থেকে তার ৫০ লাখ টাকার সিসি লোন নেওয়া ছিল, যা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন দিশেহারা এই ব্যবসায়ী সরকারি বা বেসরকারি বড় ধরনের কোনো সহায়তা ছাড়া পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী পারভেজ কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তার দোকান ও গোডাউন মিলে বিপুল পরিমাণ মালামাল ছিল। ফায়ার সার্ভিস প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের জনবল এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবের কারণে আগুনের ব্যাপকতা কমানো সম্ভব হয়নি। 

মান্ধাতা আমলের যন্ত্রপাতি দিয়ে বিশাল এই অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা করা কঠিন ছিল।আধুনিক প্রযুক্তি থাকলে হয়তো তার এত বড় ক্ষতি হতো না। এখন সন্তানদের পড়াশোনা আর সংসারের খরচ কীভাবে চলবে, তা নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

Sources: আমার দেশ