বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

নীলফামারীতে অমানবিক কাণ্ড: বাচ্চা বিক্রির চাপে ক্লিনিক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৩১, ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

নীলফামারীতে অমানবিক কাণ্ড: বাচ্চা বিক্রির চাপে ক্লিনিক

ক্লিনিকে প্রশাসনের অভিযান

নীলফামারীর ডোমারে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারের বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতক বিক্রি করার জন্য স্বজনদের ওপর অমানবিক চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ‍‍`মমতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার‍‍` নামক ওই প্রতিষ্ঠানের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর মঙ্গলবার দুপুরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। 

এ সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও অমানবিক আচরণের দায়ে ক্লিনিকটিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।ভুক্তভোগী পরিবারটি ডোমার উপজেলার দক্ষিণ গোমনাতি এলাকার বাসিন্দা। 

কৃষক রাকিবুল হাসানের স্ত্রী হাবিবা সুলতানা গত শুক্রবার প্রসব বেদনা নিয়ে ডোমার উপজেলা পরিষদ মার্কেটের ওই ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন। সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের পর রবিবার তাদের ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি করা ২২ হাজার টাকা জোগাড় করতে না পারায় শুরু হয় বিপত্তি। 

অভিযোগ উঠেছে, ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. ফারজানা আফরিন টাকা না পেয়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার শুরু করেন।রাকিবুল হাসান ও হাবিবা সুলতানা দম্পতির ভাষ্য অনুযায়ী, সিজারের বিল পরিশোধ করতে না পারায় তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল। এমনকি প্রসূতি মায়ের প্রয়োজনীয় ওষুধও বন্ধ করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বিলের টাকা সমন্বয় করতে ওই চিকিৎসক তাদের নবজাতক সন্তানটি বিক্রি করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। 

গত দুদিন ধরে ক্লিনিকের লোকজনের মাধ্যমে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি সেখানে আসছিল যারা বাচ্চাটি ৩০ হাজার টাকায় কেনার প্রস্তাব দেয়। পরিকল্পনা ছিল, বিক্রির টাকা থেকে ক্লিনিকের পাওনা ২০ হাজার টাকা রেখে বাকি অংশ পরিবারকে দিয়ে বাচ্চাটি হস্তান্তর করা হবে।এমন অমানবিক পরিস্থিতির খবর জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রশাসনের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ক্লিনিকে প্রায়ই সাধারণ রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। 

বিল নিয়ে এমন অমানবিক চাপের ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক সোহাগ মামুন জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের অপেশাদার ও রূঢ় আচরণ প্রত্যক্ষ করেছেন। যদিও ডা. ফারজানা আফরিন বাচ্চা বিক্রির চাপের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, কেবল বিল পরিশোধের তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।অভিযোগ পাওয়ার পরপরই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা তদন্ত শুরু করেন। মেডিকেল অফিসার ডা. সোহান চৌধুরী জানান, তদন্তে বাচ্চা বিক্রির চেষ্টার পাশাপাশি ক্লিনিকে পর্যাপ্ত জনবল ও ডিউটি ডাক্তার না থাকার মতো বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অমানবিক আচরণ ও প্রশাসনিক অনিয়মের দায়ে ক্লিনিকটিকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার পর পরবর্তী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন শঙ্কামুক্ত এবং প্রশাসনের তদারকিতে রয়েছে।