এপ্রিল ১, ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করতে ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। বুধবার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার ইন্দিরা রোডে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তবে অভিযানের প্রথম দিনে দখলকারীদের সরাসরি শাস্তি না দিয়ে কেবল সতর্ক করে ফুটপাত থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল ফয়সাল এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন এবং তিনি জানান যে প্রথম পর্যায়ে তারা দখলকারীদের কেবল সচেতন করার চেষ্টা করছেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে ফুটপাতের ছোট দোকানগুলোর সাথে অনেক মানুষের রুটি রোজগার জড়িত থাকায় মানবিক দিকটি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে যারা দোকানের সামনের অংশ অবৈধভাবে বাড়িয়ে ফুটপাত সরু করে ফেলেছে তাদের সেই বর্ধিত অংশগুলো সাথেসাথেই উচ্ছেদ করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালীন ম্যাজিস্ট্রেট আল ফয়সাল জানান যে আজকের এই কার্যক্রম মূলত ছিল এক ধরণের কাউন্সেলিং। দোকানদারদের বোঝানো হয়েছে যে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা আইনের লঙ্ঘন এবং এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটে। তবে তিনি এটিও পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে এই নমনীয়তা কেবল প্রথম বারের জন্য। যদি একই জায়গায় পুনরায় দোকান বসানো হয় কিংবা ফুটপাত দখল করার চেষ্টা করা হয় তবে ডিএমপি আর কোনো ছাড় দেবে না।
পরবর্তী অভিযানে সরাসরি মালামাল জব্দ করা এবং বড় অঙ্কের জরিমানা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতে এই ধরণের উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত বিরতিতে পরিচালনা করা হবে বলে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মূলত জনদুর্ভোগ লাঘব এবং ঢাকার রাস্তাগুলোতে জটলা কমাতেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।
দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর ফুটপাতগুলো অবৈধ হকার ও দোকানিদের দখলে থাকায় সাধারণ পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে করে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ডিএমপির এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানালেও অনেকে স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছেন। ম্যাজিস্ট্রেট জানান যে কেবলমাত্র উচ্ছেদ করলেই হবে না বরং এলাকাগুলো যাতে পুনরায় দখল না হয় সেদিকে সার্বক্ষণিক কঠোর তদারকি বজায় রাখা হবে।
প্রশাসনের এমন অনড় অবস্থানের ফলে ঢাকার প্রধান সড়কগুলোর চেহারা বদলাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন যে জনস্বার্থ রক্ষায় ডিএমপি সবসময়ই সজাগ থাকবে। আজকের এই অভিযানের পর ইন্দিরা রোডের ফুটপাত অনেকটা পরিষ্কার দেখা গেলেও এটি কতদিন স্থায়ী হয় সেটিই এখন দেখার বিষয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন যে নিয়মিত তদারকি না থাকলে একদিন পরেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে ডিএমপি বলছে এবার তারা কোনো দখলদারকেই ছাড় দেবে না। জননিরাপত্তা এবং রাস্তার শৃঙ্খলা ফেরাতে তারা প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ পথচারীদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
তবে মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উচ্ছেদ করা স্থানগুলো দখলমুক্ত রাখা এবং জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করে ধরে রাখা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব হবে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন