শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

নীলফামারীতে তেলের পাম্পে বাইকের দীর্ঘ সারি

শহিদুল ইসলাম

এপ্রিল ২, ২০২৬, ১১:০১ এএম

নীলফামারীতে তেলের পাম্পে বাইকের দীর্ঘ সারি

পাম্পে বাইকের দীর্ঘ সারি ছবি-দিনাজপুর টিভি

নীলফামারীর প্রতিটি জ্বালানি তেলের পাম্পে এখন সূর্য ওঠার আগেই দেখা যাচ্ছে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। তবে এই লাইনে মানুষের চেয়ে লোহার তৈরি যন্ত্রগুলোর উপস্থিতিই যেন বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে। পাম্প খোলার কয়েক ঘণ্টা আগেই বাইকাররা তাদের শখের বাইকটি সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখছেন। উদ্দেশ্য একটাই, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যদি কয়েক লিটার প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করা যায়।

সরেজমিনে পাম্পগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত মোটরসাইকেল ঠাসাঠাসি করে দাঁড়িয়ে আছে। কোনোটিতে হেলমেট রাখা আবার কোনোটি তপ্ত রোদ থেকে বাঁচাতে কাপড়ে ঢাকা। 

প্রতিটি বাইক যেন এক একটি নীরব প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মালিকেরা পাশে বসে থাকছেন তপ্ত রোদে কিংবা গাছের ছায়ায়। তাদের চোখেমুখে রাজ্যের ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তা। এই দীর্ঘ অপেক্ষা শুধু কয়েক লিটার তেলের জন্য নয়, বরং প্রতিদিনের রুটি-রুজির চাকা সচল রাখার এক নিরন্তর লড়াই।

লাইন দাঁড়িয়ে থাকা একজন ভুক্তভোগী বাইকার আক্ষেপ করে বলেন, তেল না পেলে সময়মতো কাজে যেতে পারি না। বাইকটা এখানে ভোররাতে রেখে দিয়েছি যদি সঠিক সময়ে সিরিয়াল পাওয়া যায়। এই অনিশ্চয়তা এখন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা কেবল সাধারণ পরিবহনেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে না, বরং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

পাম্পে তেল আসার সংবাদের অপেক্ষায় দিন পার করা এই মানুষগুলোর মূল্যবান সময় এবং শ্রম—দুটোই অপচয় হচ্ছে প্রতিনিয়ত।এক সময়ের শখের বাইক আজ অনেকের কাছেই যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেলের সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে, ফলে কাজ করার সময় থাকছে না চালকদের। 

নীলফামারীর এই বর্তমান দৃশ্যপট আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আধুনিক জীবন কতটা জ্বালানি নির্ভর হয়ে পড়েছে। তেলের এই সংকট কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, সেই সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো কারো জানা নেই। তবে সাধারণ মানুষের এখন একটাই চাওয়া—এই দীর্ঘ লাইন আর ক্লান্তিকর অপেক্ষার অবসান হোক এবং জনজীবনে দ্রুত স্বস্তি ফিরুক। মাঠ পর্যায়ের এই চিত্র এখন শুধু একটি জেলা শহরের নয়, বরং তেলের সংকটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির এক জীবন্ত দলিলে পরিণত হয়েছে।