এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
কুষ্টিয়ায় স্ত্রীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার দায়ে আব্দুল আউয়াল নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত কবির সরকার আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল আউয়াল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর গ্রামের কুণ্ডুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করীম বিশ্বাসের ছেলে।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি সকালে তিন সন্তানের জননী শাহানা খাতুনের সঙ্গে তাঁর স্বামী আব্দুল আউয়ালের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
আউয়ালের পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে শাহানা তার প্রতিবাদ করেন এবং স্বামীকে সতর্ক করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আউয়াল বাড়ির উঠানেই সবার সামনে ধারালো হাসুয়া দিয়ে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন।
এতে ঘটনাস্থলেই শাহানার মৃত্যু হয়। এই পাশবিক হত্যাকাণ্ড দেখে আউয়ালের মা ছেলেকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনিও হাসুয়ার কোপে রক্তাক্ত জখম হন।চিৎকার শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ঘাতক আব্দুল আউয়ালকে জাপটে ধরেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় এবং আউয়ালকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনার দিনই নিহতের বড় ভাই শফিউদ্দিন বাদী হয়ে সদর উপজেলার ইবি থানায় একমাত্র আব্দুল আউয়ালকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান ইবি থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলী মিয়া। তিনি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তদন্ত শেষ করে ২০২০ সালের ৩ মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আজ এই রায় প্রদান করা হলো। রাষ্ট্রেপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট খন্দকার সিরাজুল ইসলাম জানান, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই দণ্ড দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এমন দৃষ্টান্তমূলক সাজা সমাজে এ ধরনের অপরাধ কমাতে সহায়ক হবে। রায় শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কড়া পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন