এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
ভোজ্য তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং অসাধু সিন্ডিকেটের প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) পঞ্চগড় জেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল বুধবার দুপুরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। পঞ্চগড় শহীদ মিনারের সামনে ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশে আয়োজিত এই মানববন্ধন থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, বাজারে বর্তমানে তেলের দামে কোনো শৃঙ্খলা নেই। সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীরা সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
সমাবেশে জেলা ক্যাবের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিমউদ্দীন এবং জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র রায় বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়াও দেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম ও ক্যাবের সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।
বক্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৮৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের মূল্য ১৭০ টাকা। কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাস্তবে বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত তেল ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। একইভাবে খোলা পাম তেলের নির্ধারিত দাম ১৬২ টাকা হলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা তা ১৬৮ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এসব তথ্য প্রমাণ করে যে, বাজারে কার্যকর তদারকির চরম অভাব রয়েছে।
সমাবেশে ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি কেবল সাধারণ বাজার অস্থিরতা নয়, বরং ভোক্তার মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ন্যায্য মূল্যে পণ্য পাওয়া এবং নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করা এক ধরনের সংগঠিত প্রতারণা। বক্তারা মনে করেন, এই প্রতারণা অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন এবং এর নেপথ্যে থাকা সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।
জেলা ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিমউদ্দিন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও বাজার নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বাজারে কঠোর নজরদারির অভাব এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ সভা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হুশিয়ারি দেওয়া হয় যে, তেলের বাজার স্বাভাবিক না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মূলত তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করাই ছিল এই বিক্ষোভের মূল লক্ষ্য। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের সচেতন নাগরিক ও ভোক্তারা উপস্থিত থেকে কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। বাজারের কৃত্রিম সংকট দূর করতে এখনই কার্যকর ভূমিকা না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন