বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

নীলফামারীতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল প্রকল্প পরিদর্শন

মো. শহিদুল ইসলাম

এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

নীলফামারীতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল প্রকল্প পরিদর্শন

প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে প্রতিনিধি দল ছবি-দিনাজপুর টিভি

নীলফামারীতে চীন সরকারের অনুদানে প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল’ প্রকল্পের কাজ আরও ত্বরান্বিত করতে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করেছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা সদরের দারোয়ানি টেক্সটাইল মিল এলাকায় হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত স্থানটি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন তাঁরা। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দল পরিদর্শন সম্পন্ন করেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিদর্শনকালে প্রস্তাবিত প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, ভূমির ব্যবহার এবং যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

প্রতিনিধি দল নির্ধারিত স্থান ঘুরে দেখার পর নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং বর্তমান স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেন। এরপর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের জানান যে, প্রাথমিক জরিপ অনুযায়ী প্রস্তাবিত স্থানে সড়ক, রেল এবং আকাশপথে উন্নত যোগাযোগের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অবকাঠামো সঠিক উপায়ে উন্নয়ন করা সম্ভব হলে কেবল নীলফামারী নয়, পুরো উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এর পাশাপাশি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজতর ও সুসংহত হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে এক হাজার শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল। পরিকল্পনায় ৫০০টি শয্যা সাধারণ রোগীদের জন্য এবং বাকি ৫০০টি শয্যা বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ রাখার কথা রয়েছে। সচিব আরও জানান যে, আজকের এই পরিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা তৈরি করা হবে এবং তা আগামী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য আর রাজধানীমুখী হতে হবে না, যা এই অঞ্চলের জীবনযাত্রার মানও উন্নত করবে।