এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরনবী সরকারকে মারধরের ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় দিনাজপুর শহরের সুইহারি ড্রাইভারপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার রাত ১২টার পর রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারি সংবাদমাধ্যমকে এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায় গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে নিজ অফিসে দায়িত্ব পালন করছিলেন পিআইও নুরনবী সরকার। ওই সময় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন, উপজেলা সভাপতি সোহরাব আলী ও সাধারণ সম্পাদক জাফর আলীসহ কয়েকজন তার কক্ষে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা সরকারি কর্মকর্তার ওপর চড়াও হওয়ার পাশাপাশি অফিস কক্ষে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামুনসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।মামলার পরপরই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয় এবং পৌর শহরের ভান্ডারা এলাকা থেকে জিয়াউর রহমান নামে একজনকে গ্রেফতার করে আগেই জেলহাজতে পাঠানো হয়। সবশেষ শুক্রবার দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মামুনুর রশিদ মামুনকে আটক করে পুলিশ।
ভুক্তভোগী পিআইও নুরনবী সরকার অভিযোগ করে বলেন মামুনুর রশিদ মামুন বিভিন্ন সময় তার কাছে অনৈতিক সুবিধা ও ভাগবাটোয়ারা দাবি করে আসছিলেন। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মামুন ক্ষিপ্ত হয়ে দলবল নিয়ে অফিসে এসে তার শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং মারধর করেন। এই ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর গত ৮ এপ্রিল ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এবং বাংলাদেশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সমিতি এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই দিনে রাণীশংকৈল অফিসার্স ক্লাবও পৃথক বিবৃতিতে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলে। অন্যদিকে এই মামলায় জিয়াউর রহমান ও রাকিব ফেরদৌসকে আসামি করার প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশ। তারা দাবি করেছেন ওই দুজন ঘটনার সময় সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভিডিও ধারণ করতে গিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য যে গত মঙ্গলবার রাতে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অফিস খোলা রাখাকে কেন্দ্র করে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কর্মকর্তার বাগবিতণ্ডা হয় যা পরে মারধরে রূপ নেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে এলাকায় গণঅধিকার পরিষদ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রহমতুল্লাহ রনি জানিয়েছেন মামুনুর রশিদ মামুনকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে দিনাজপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন